অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব

সামনের যেকোনো নির্বাচনের জন্য বিএনপি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির পুনঃনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, জনগণ বিএনপির পক্ষে। বিএনপিও সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে সব নির্বাচনেই বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় হবে। তিনি গতকাল দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট বারে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।

আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনেও বিএনপিতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন দেশবাসী মেনে নেবে না। এ বিষয়ে দুএকদিনের মধ্যে বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের জাতীয়তাবাদী শক্তির নিরঙ্কুশ বিজয়ের ফলাফল আগামীতে জাতীয় নির্বাচনেও প্রভাব ফেলবে। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে যারা এতদিন আত্দগোপনে ছিলেন তারাও প্রকাশ্যে চলে আসবেন। নির্বাচনের জন্য সভা-সমাবেশেও অংশ নেবেন তারা। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতাদের খুব একটা প্রয়োজন নেই। তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরাই বিএনপিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে এ নিয়ে আমাদের সরাসরি কোনো কথা হয়নি। আকারে-ইঙ্গিতে কথা হয়েছে। তিনি কোনো মনোভাব ব্যক্ত না করলেও তাকে ইতিবাচক মনে হয়েছে। বেগম জিয়া বলেছেন, যেহেতু জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন, তাই বিষয়টিকে যথাযথভাবে দেখা হবে।’ মাহবুব হোসেন বলেন, বিএনপি জোট যখন আন্দোলন করছে তখন আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতেই সরকার সিটি নির্বাচন দিচ্ছে। কিন্তু জনগণ যদি চায়, বিএনপি এ নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সরকারের কোনো কৌশলই কাজে আসবে না। আমার মনে হয়, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে সরকার পিছু হটবে।

নির্বাচন বন্ধও করে দিতে পারে। ডিসিসি নির্বাচনে অংশ নিলে আন্দোলন ক্রমান্বয়ে আরও শক্তিশালী হবে বলেও মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, সরকারের একগুঁয়েমির কারণে জনগণের জানমালের ক্ষতি হচ্ছে। অর্থনীতি ধ্বংসের মুখোমুখি। শুধু প্রধানমন্ত্রীর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপেই চলমান সব সংকট দূর হয়ে যাবে। বিএনপি আর আন্দোলনে থাকবে না। সংলাপ-সমঝোতার মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই চলমান সমস্যার সমাধান বলে জানান তিনি।

সুপ্রিমকোর্ট বারের নবনির্বাচিত সভাপতি বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিক সমস্যাকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে তুলনা করছে। জনগণের মূল দাবি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে অস্বীকার করছে। আন্দোলনে থাকা বিএনপি জোটকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে দমন করা হচ্ছে। যতগুলো পেট্রলবোমার ঘটনা ঘটেছে- তাতে নারী ও শিশুর ক্ষতি হয়েছে বেশি। সরকারের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ মদতেই এসব হয়েছে বলে আমি মনে করি।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। আমরা জনগণের ভোটে বিশ্বাস করি। আজ যে আন্দোলন চলছে, তাও ভোটের অধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *