সুমো রেসলিং আর মার্শাল আর্টের দেশ জাপানে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘সারভাইভাল গেমস’ নামের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। বর্তমান সময়ে জাপানি তরুণদের কাছে একটি আকর্ষণীয় খেলায় পরিণত হয়েছে নকল এই যুদ্ধ। বাস্তব জীবনে আসল যুদ্ধের বিরোধী হলেও, নিছক বিনোদনের জন্য এ খেলাটি দারুণ উপভোগ্য তাদের কাছে। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে বনের মাঝে সতর্ক দৃষ্টি রেখে ছুটছে একদল তরুণ যোদ্ধা। বনের গাছপালার মাঝে নিজেদের সহজে আড়াল করতে ক্যামোফ্লেজ গায়ে চাপিয়ে অস্ত্র হাতে বোঝার চেষ্টা করছে শত্রুর মনোভাব। তরুণ এই জাপানি যোদ্ধারা আসল কোন যুদ্ধ জয়ে নয়, খেলনার এয়ারগান, প্লাস্টিকের বুলেট নিয়ে “সারভাইভাল গেমস” নামের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় মেতে উঠেছে। খেলোয়াড়দের জন্য টোকিও’র পূর্ব দিকে ক্যাম্প দেবগ্রু’তে সাজানো হয়েছে কৃত্রিম যুদ্ধক্ষেত্র। শান্তিপ্রিয় জাপানিদের মধ্যে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এই খেলাটি, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে যারা শুধু তাদের পূর্বসূরিদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয়া যোদ্ধাদের বীরত্ব গাথা শুনে বড় হয়েছেন। একজন বলেন, ‘জাপানি তরুণদের মধ্যে ‘সারভাইভাল গেমস’ ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।’ আরেক তরুণ বলেন, ‘বিনোদনের জন্য আমার কাছে এই খেলাটি খুবই আকর্ষণীয় । তবে এই খেলাটি সত্যিকার যুদ্ধের চেয়ে আলাদা এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি কোন যুদ্ধ চাই না।’ খেলায় অংশ নেবোয়া একজন বলেন, ‘বন্দুক দিয়ে অন্যদের গুলি করা মোটেও ভালো কিছু না, তবে কিছু কিছু যুদ্ধ আছে সেখানে অংশ নেয়া উচিত। কারণ, ভবিষ্যতে জাপানের প্রয়োজনে কখনও যুদ্ধে অংশ নিতে হলে আত্মরক্ষায় এ অভিজ্ঞতা কাজে দিবে।’ মার্কিন গবেষণা সংস্থা- গ্যালপ, ৬৪টি দেশের ওপর জরিপ করে বলছে, জাপানের মাত্র ১১ শতাংশ লোক প্রয়োজনের সময় দেশের জন্য যুদ্ধ করতে আগ্রহী। তাই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের খেলায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশের হয়ে যুদ্ধ অংশ নেয়ার মানসিকতা গড়ে উঠবে। Post navigation সুন্দরগঞ্জে চরসহ নিম্না ল প্লাবিত `সেভ দ্য চিলড্রেন’কে পাকিস্তান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সরকার।