ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ৭ই নভেম্বরে কাশ্মীরে যাবেন। এ কারণে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে শত শত রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও কাশ্মিরের স্বাধীনতাপন্থি নেতাকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদির সেখানে একটি র্যালিতে অংশ নেবেন। কিন্তু এর প্রতিবাদে বিদ্রোহীরা ও স্বাধীনতাপন্থিরা পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর নাম দেয়া হয় ‘মিলিয়ন মার্চ’। যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি এমনই এক প্রচারণা চালিয়েছিল তারা। সেই আদলে কাশ্মীরে পাল্টা র্যালির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কাশ্মীরের স্বাধীনতা আন্দোলনের শীর্ষ স্থানীয় নেতা সৈয়দ আলী শাহ জিলানি বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের জবাবে ভারত শক্তি প্রয়োগ করেছে। তারপরও আমরা আমাদের ভেন্যুতে ১০ লাখ মানুষ সমবেত করতে পারবো বলে আশা করছি। উল্লেখ্য, জিলানি বর্তমানে গৃহবন্দি। তা সত্ত্বেও তিনি স্বাধীনতার পক্ষের সব দলকে শান্তি র্যালিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, যেসব বিদ্রোহী স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছেন তারাও এতে যোগ দেবেন। তিনি বলেন, আমরা নরেন্দ্র মোদির র্যালিতে কোন স্যাবোটাজ ঘটাতে চাই না। কিনতু আমরা বিশ্বকে কাশ্মির বিষয়ে জাতিসংঘের ১৮ নম্বর প্রস্তাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। ওই প্রস্তাবনায় কাশ্মিরীদের আত্ম নিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। তবে গত কয়েক দিন ধরে ভারতীয় পুলিশ কাশ্মিরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আটক করেছে। এক ডজনেরও বেশি সামাজিক সাইটের পেট বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইন্টারনেট, ফোন, সড়ক, মহাসড়ক বন্ধ করে দেয়া হতে পারে শনিবার ৭ই নভেম্বর। শীর্ষ স্থানীয় একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, আমরা সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে চাই না। যারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে, বিক্ষোভ করে তাদেরকে আটক করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সফরের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্বাধীনতাপন্থিদের প্রস্তাবিত মিলিয়ন মার্চ ভারত বিরোধী বিশাল র্যালিতে পরিণত হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ শঙ্কিত। বুধবার স্বাধীনতাপন্থি আরেক নেতা হিলাল ওয়ারের সংবাদ সম্মেলনে ঘেরাও দেয় পুলিশ। তাকে ও তার সমর্থকদের তুলে নিয়ে যায়। ওদিকে মিলিয়ন মার্চ র্যালিতে সমর্থন দিয়েছে ওয়ারস পিপলস পলিটিক্যাল পার্টি (পিপিপি)। তারা মনে করে এমন পরিস্থিতি কাশ্মীরের গণভোটের সামিল। এতে বোঝানো হয় কাশ্মিরীরা কি চায়। স্বাধীনতাপন্থি আরেকটি প্রভাবশালী দল দ্য জম্মু অ্যান্ড কাশ্মির লিবারেশন ফ্রন্ট (জেকেএলএফ) এর নেতৃত্বে রয়েছেন ইয়াসিন মালিক। তিনি বলেন, এরই মধ্যে মিলিয়ন মার্চকে সমর্থন করেন তার এমন ১৫০ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবারই প্রথম কাশ্মির উপত্যকা সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমনত্রী।