120_sahপাদদেশ থেকে বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে পড়েছে সিলেটের সুরমার ওপর স্থাপিত শাহজালাল সেতু। প্রতি দিন ওই এলাকা থেকে গড়ে ৪০ হাজার ফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিলেও উত্তোলিত বালু সরিয়ে নেয়া হচ্ছে চুপিসারে। এ ঘটনায় ক্ষোভ বেড়েছে নগরীর মাছিমপুর এলাকায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সেতুর খুঁটির কাছ থেকে বালু উত্তোলন না করতে বারবার নিষেধ দেয়া হলেও তারা মানেনি। এ নিয়ে উত্তেজনা চলছে এলাকায়ও। উপশহর মেন্দিবাগ এলাকা দিয়ে নির্মিত সুরমার ওপর স্থাপিত শাহজালাল সেতু। সুরমা নদীর উত্তর ও দক্ষিণপাড়কে সংযোগ করার এ সেতুটি এখন দুই পাড়ে যানবাহন চলাচলের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু বারবার সেতুটি পড়ছে বালুখেকোদের দখলে। শুকনো মৌসুম শুরু হলেই নদীর পাদদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হয়। এতে সেতুর পিলার নড়বড়ে হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। স্থানীয় মাছিমপুর এলাকার লোকজন জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোস্তাকের নেতৃত্বে খলিল মিয়া নামের এক কন্ট্রাক্টর প্রায় ১৫ দিন থেকে তিনটি ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। শহজালাল সেতুর নিচে বালু উত্তোলন করে রাখার কারণে পথচারী, মসজিদের মুসল্লি, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা চলাচলে নানা সমস্যায় ভুগছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিনটি ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে প্রায় ৪০ হাজার ফুট বালু প্রতিদিন উত্তোলন করা হয়। এ অবস্থায় এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় মাছিমপুর এলাকার লোকজন বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলর মোস্তাক আহমদও। তার কাছে এলাকার লোকজন বালু উত্তোলন বন্ধ করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। এ সময় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন কাউন্সিলর। কিন্তু তার আশ্বাস মানেননি এলাকাবাসী। তারা বলেন, ১৫ দিনের মধ্যে অনেক বালু লুটপাট হয়ে যাবে। এর ফলে হুমকির মুখে পড়তে পারে সেতুর মূল পিলার। এদিকে, কাউন্সিলরের আশ্বাসে স্বস্তি না পাওয়া এলাকাবাসী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এরপর প্রেক্ষিতে গত বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল আহমদ। তিনি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি হাউকোর্টের বালু উত্তোলনের অনুমতির কাগজপত্র দেখানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। বালু উত্তোলন নিয়ে কাউন্সিলরের ভাই প্রজন্ম লীগ নেতার সঙ্গে স্থানীয়দের কথাকাটাকাটির ঘটনাও ঘটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে। পরবর্তীতে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এদিকে, অভিযানের আগেই কয়েক লাখ ফুট বালু উত্তোলন করে ফেলে ঠিকাদার খলিল আহমদ। স্থানীয়রা উত্তোলিত বালু সেতু রক্ষার্থে স্ব-স্থানেই ফেলে দেয়ার দাবি তোলেন। কিন্তু উত্তোলিত বালুগুলো ফের নদীতে না ফেলে ট্রাকযোগে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এই বালুগুলো সুরমার তীরবর্তী স্থানে একটি রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। মাছিমপুর এলাকার মুরব্বি সেলিম আহমদ জানিয়েছেন, ‘এক সপ্তাহ আগে এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠক থেকে বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর মোস্তাক আহমদকে অবগত করা হয়। তিনি ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে সেটি আমরা মানিনি। কারণ, কাউন্সিলরের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে অনেক বালু লুটপাট করা হতো। পরে প্রশাসন এসে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’ এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তাক আহমদ বলেন, ‘আমি বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নই। ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ঠিকাদার আমার ওয়ার্ডে কাজ করছেন।’ তিনি জানান, হাইকোর্টের নির্দেশেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।’ আদালতের অনুমোদন করা কাগজপত্র আপনার কাছে আছে কিনা এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি। সেতুর নিচে বালু রেখে পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা করা হলেও আপনি নীরব- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সেটেলমেন্ট অফিস থেকে আমার মাধ্যমে ভাড়া নিয়েই তারা বালু রেখেছে।’ এদিকে, ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশের পর থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও উত্তোলিত বালু সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানের দিন উত্তোলিত বালুও সরিয়ে না নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ঠিকাদার পক্ষ ওই বালু ট্রাকযোগে সরিয়ে নিচ্ছে। এতে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, উত্তোলিত বালু ফের স্ব-স্থানে ফেলে আপাতত রক্ষা করা হোক শাহজালাল সেতু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *