us-elections-2016-638871অক্টোবর সারপ্রাইজ। বলা হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগের মাসে অর্থাৎ অক্টোবরে প্রার্থীদের বিষয়ে এমন সব চমক প্রকাশ করা হয় যা উল্টে দিতে পারে নির্বাচনের সব হিসেব নিকেশ।

যা পরিচিত অক্টোবর সারপ্রাইজ নামে। ১৯৭২ সালের পর থেকে যা প্রভাব ফেলে আসছে মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলে। এপর্যন্ত অক্টোবর সারপ্রাইজের শিকার কোন প্রার্থীই জয় পান নি শেষমেষ।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন মানেই চমক। প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু হয়ে যার রেশ চলে ভোটের দিন পর্যন্ত। তবে দিন যত ঘনাতে থাকে বাড়তে থাকে এর মাত্রাও। আর এ চমকের শক্তি এতটাই যে অনেক সময় তা পাল্টে দেয় ভোট মাঠের সব হিসাব-নিকাশ। রীতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ভোট হয় নভেম্বরের প্রথম সোমবারের পরদিন। তাই চমকের জন্য বেছে নেয়া হয় অক্টোবরকেই। যার ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। প্রথম চমকটি আসে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।

মাসের শুরুতে ২০০৫ সালে নারীদের নিয়ে ট্রাম্পের করা অশ্লীল মন্তব্যের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের ডজন খানেক অভিযোগ নিয়ে হাজির হন বেশ কজন নারী। টলে ওঠে ট্রাম্পের ভাবমূর্তি। চমক অপেক্ষা করছিল হিলারির জন্যও। মাসের শেষভাগে তার ই-মেইল তদন্ত নিয়ে হাজির এফবিআই। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জরিপের ফলাফলে। আবারও হালে পানি পেতে শুরু করেন ট্রাম্প।

বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রটির নির্বাচনে অক্টোবর সারপ্রাইজের শুরু সেই ১৯৭২ সালে। সে বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো রিপাবলিকান প্রার্থী হন রিচার্ড নিক্সন। ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনার মুখে যখন তীরে এসে তরি ডোবার জোগাড়, তখনই চমক নিয়ে হাজির তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার। “শান্তি হাতের মুঠোয়” কিসিঞ্জারের এমন ঘোষণায় সেবারের মতো রক্ষা পান নিক্সন।

একই ঘটনা ঘটে ১৯৮০ সালে রোনাল্ড রিগান এবং জিমি কার্টারের বেলায়। ইরানে মার্কিন দূতাবাসের অপহৃত ৫২ কর্মীকে উদ্ধারে ইরানের সাথে সমঝোতা করেছেন রিপাবলিকানরা এমন খবরে হেরে যান জরিপে এগিয়ে থাকা ডেমোক্রেট প্রার্থী কার্টার। আর ২০০০ সালে নির্বাচনের মাত্র ৫ দিন আগে জর্জ ডাব্লিউ বুশের বিরুদ্ধে মদ্যপান অবস্থায় গাড়ি চালানোর সময় গ্রেপ্তারের অভিযোগ ফাঁস হওয়ার ঘটনা তো অনেকের স্মৃতিতে এখনও টাটকা।

যার ধাক্কায় পপুলার ভোটে হেরে বসেন বুশ। অবশ্য মান বাঁচায় ইলেক্টোরাল ভোটের জয়। ২০০৪ সালে লাদেনের ভিডিও ফাঁসের সুবাদে জন কেরিকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয়বার জয় পান বুশ। এর পরের বার যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব বাড়ার প্রতিবেদন প্রকাশের পর জন ম্যাককেইনকে পেছনে ফেলে জয় পান দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আর ২০১২ সালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে থাকা ওবামা আর মিট রমনীর নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলে হারিকেন স্যান্ডি।

ভোটের মাত্র ১০ দিন আগের এ প্রাকৃতিক দুযোর্গকেও অক্টোবর সারপ্রাইজ বলে প্রচার চালায় গণমাধ্যম। যার জের ধরে জয় পান ওবামা। তবে এবার দুপ্রার্থীর জন্যই ছিল অক্টোবর সারপ্রাইজ। তাই শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে ছিঁড়বে শিকে তা নিয়ে গলদঘর্ম নির্বাচন বিশ্লেষকরাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *