বিপিএলে বরিশাল বুলসের খেলোয়াড় ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার না খেলেই উড়ে গেছেন মেলবোর্ন। সেখানে বিগ ব্যাশে মেলবোর্ন রেনেগেডসের সাথে যোগ দিয়েছেন। সারা বিশ্বে ঘুরে ঘুরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলাই কাজ ক্রিস গেইলের। সেই কাজে ক্রিকেট বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী তিনি। তবে ২০ ওভারের ক্রিকেটের জন্য ভুলে যাননি টেস্ট ক্রিকেটকে। ২০১৬ সালে টেস্টে ফেরার পরিকল্পনা গেইলের। অস্ট্রেলিয়ায় তার সমালোচনা হওয়ার পর এই কথা জানালেন গেইল।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলেছেন। তারপর বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে অনুপস্থিত গেইল। পিঠের ইনজুরি ছিল। অস্ত্রোপচার করিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তারপর খেলতে এসেছিলেন বিপিএলে। সেখানে ঝড় তুলে বিগ ব্যাশে যোগ দিলেও গেইলের মনে ঘুরছে টেস্ট।

অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া সম্প্রতি সংবাদ করেছে যে গেইল শুধু টাকার পেছনে ছুটছেন। এই কারণে বিশ্বের যেখানে আকর্ষণীয় টি-টোয়েন্টি লিগ, সেখানেই আছেন গেইল। কিন্তু এই সমালোচনা শোনার মানুষ নন গেইল। ধাক্কা খেয়েছেন সমালোচনায়। কিন্তু আত্মপক্ষ সমর্থনও করেছেন, “কোনোভাবেই আমি টেস্ট দলের (হোবার্টে) অংশ হতে পারতাম না। কেবলই ইনজুরি থেকে ফিরছি আমি।” হোবার্টে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে তিনদিনেই বাজেভাবে হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই প্রসঙ্গ এসেছে গেইলের কথায়।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদপত্র সিডনি ডেইলি টেলিগ্রাফ “গেইল প্রহসন” শিরোনামে সংবাদ করেছে। সেখানেই একপ্রকার লোভাতুর গেইলের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু গেইল নিজের ইনজুরির প্রসঙ্গ টেনে জবাব দিয়েছেন। এসেছে বিপিএলে খেলার কথাও। গেইলের কথায়, “আমি অবসর নেইনি। আশা করি আগামী বছর আমার পরিকল্পনায় টেস্ট থাকবে। অনেক দিন ব্যাট করিনি। এরপর একটি খেলায় (বিপিএলে) ৯২ করলাম। পরের দিন মনে হচ্ছিল বাসের সাথে দুর্ঘটনা হয়েছে আমার। শরীর তৈরি হতে সময় নেয়।”

হোবার্ট টেস্টের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অনেক সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু গেইল মনে করেন, তরুণ দলটিকে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। রাতারাতি সবকিছু ভালো হয়ে যাওয়া সম্ভব না। গেইল বলেছেন, “এটা তরুণ দল। সবসময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটের ওপর কঠোর না হয়ে দলটিকে সময় দিতে হবে। রাতারাতি কিছু হবে না…আমাদের সময় দিতে হবে। মনে পড়ে যায় একসময় আমরা কিভাবে অস্ট্রেলিয়াকে শাসন করতাম। এখন হচ্ছে তার উল্টোটা। প্রার্থনা করি, তারা যেন ঘুরে দাঁড়াতে পারে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *