ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরার দিনটিকে স্মরণ করছেন সারাবিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরের মত এবারও কড়া নিরাপত্তায় গতকাল সকালে রাজধানীর হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করে শিয়া সম্প্রদায়। এদিকে, নির্বিঘ্নে শোক মিছিল করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা।
কাঁদে কোন ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে
সে কাঁদনে আঁসু আনে সিমারেরও ছোরাতে.
নবী দৌহিত্র ইমাম হুসাইন ‘র মর্মান্তিক শাহাদাত বরণের পর থেকে গত ১৩শ ৭৮ বছর ধরে ১০ই মহররম বা আশুরা শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে শোকের সমার্থক। আশুরার এই মর্সিয়া বা মাতম তারই প্রকাশ।
ইমাম হাসান ও হোসাইনের স্মৃতি স্মরণে ছিলো দুলদুল বা সুসজ্জিত ঘোড়া। এই ঘোড়ার পা ধোয়া দুধের নানা অলৌকিক ক্ষমতার প্রচলিত কথার বিশ্বাস তাজিয়া মিছিলে টেনে এনেছে অনেক সুন্নী মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোককে। জানা গেল নানা প্রতীকী উপস্থাপনে বর্ণিল হয়ে ওঠা তাজিয়া মিছিলের প্রত্যেকটি উপকরণই কোন না কোন ভাবে শোকাবহ সেই ঘটনার কথা বলে।
তবে, পুলিশের তরফে তাজিয়া মিছিলে ছুরি, কাচি বহন নিষিদ্ধ করায়, ছিল না বুকে পিঠে ছুরি মেরে শোক প্রকাশের সেই দৃশ্য। একে ইতিবাচক ভাবেই নিয়েছেন শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা। পাশাপাশি পুলিশের নেয়া নিরাপত্তা আয়োজন নিয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তারা।
লালবাগ জোনের ডিসি জানালেন, গত বছরের অঘটনের কথা মাথায় রেখে সবখানে নেয়া হয়েছিল ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করাই আশুরার প্রধান শিক্ষা। তাজিয়া মিছিল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে এই শিক্ষা বয়ে নিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করেন শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *