ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহানের জবানবন্দি রেকর্ড করে সেটা ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামালায় তারা এসব অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন বলে জানান পিবিআই সদর দফতরের সিনিয়র এএসপি রিমা সুলতানা।

তদন্ত শেষে সব তথ্য প্রমাণ রোববার প্রতিবেদন আকারে সাইবার ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া হয়। প্রতিবেদনটি আদালতে জমা দেন এএসপি রিমা সুলতানা। তিনি বলেন, “তদন্তের সব তথ্য উপাত্তা যাচাই বাছাই শেষে ওই ওসির বিরুদ্ধে থানায় বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়াসহ প্রত্যেকটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।”

এদিকে মামলার বাদী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন আদালতে আইনানুযায়ী মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।

গত ১৫ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এরপর অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পিবিআই-কে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন এবং সেখানে তিনি ‘নিয়ম ভেঙে নুসরাতের মৌখিক অভিযোগ ভিডিও করেন’।

এরপর গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। সেখানে মুখ ঢাকা কয়েকজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়।

নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *