নাইজেরিয়ার একটি স্কুল থেকে গত মাসে দুই শতাধিক ছাত্রীকে অপহরণের দায় স্বীকার করে তাদেরকে বাজারে বিক্রি করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারাম। অপহৃতদের উদ্ধারে সহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ মঙ্গলবার অপহৃত স্কুল ছাত্রীদের উদ্ধারে সহায়তা করতে নাইজেরিয়াকে প্রস্তাব দিয়েছে। ভিয়েনায় ইউরোপীয় সম্মেলনে হেগ সাংবাদিকদের বলেন, বোকো হারাম নিজেদের যুদ্ধে এই শিক্ষার্থীদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। এটা একেবারেই অনৈতিক। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও এই ছাত্রীদের উদ্ধারে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ঐ ছাত্রীদের বয়স ১৬ থেকে ১৮ এবং তাদের সীমান্তের কাছে কোনো একটি জায়গায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে, যেখান থেকে পাচার করা খুব সহজ। তাই এ বিষয়ে তারা ভীষণ উদ্বিগ্ন। ডেমোক্র্যাটিক দলের সেনেটর অ্যামি ক্লোবুশার সেনেটে বক্তব্যে বলেন, এমন বর্বরতা দেখেও আমরা চোখ বন্ধ করে থাকতে পারি না। সেনেটে এ ঘণ্টার নিন্দা জানান তিনি৷ অবিলম্বে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ছয়জন সেনেটর একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। সংকট সমাধানে এরই মধ্যে নাইজেরিয়ায় গেছেন মার্কিন উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী সারা সেওয়াল। বার্তা সংস্থা এএফপি সোমবার বোকো হারামের শীর্ষ নেতার ৫৭ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছে। সেখানে ২৭৬ ছাত্রীকে অপহরণের কথা স্বীকার করেছে ইসলামি দল বোকোহারামের নেতা আবু বকর শেকাউ। ভিডিওতে শেকাউ প্রথমবারের মত ছাত্রীদেরকে অপহরণের স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, আমি আপনাদের মেয়েদেরকে অপহরণ করেছি। আমি আবারো বলতে চাই পশ্চিমা শিক্ষা এদেশে বন্ধ করতে হবে। আল্লাহর ওয়াস্তে আমি তাদেরকে বাজারে বিক্রি করে দেব। সেখানে তিনি বলেন বর্তমানে ঐ ছাত্রীদের তারা দাসী হিসেবে ব্যবহার করছে। এই ভিডিও পুরো বিশ্বে নিন্দার ঝড় তুলেছে। শেকাউ আরো বলেন, মেয়েদের স্কুলে যাওয়া উচিত না, বরং তাদের বিয়ে দেয়া উচিত। আমি পশ্চিমা শিক্ষার স্কুল থেকে ছাত্রীদের অপহরণ করেছি। আমি বলছি পশ্চিমা শিক্ষার দিন শেষ। মেয়েরা ফিরে যাও এবং বিয়ে কর। আমি চাই ৯ বছর বা ১২ বছর বয়সে মেয়েরা বিয়ে করুক। স্থানীয় হাউসা এবং আরবি ভাষায় তিনি এসব কথা বলেন। অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে এসব মেয়েদের চাদ ও ক্যামেরুন সীমান্তে কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং মাত্র ১২ ডলারে তাদের বিক্রি করা হচ্ছে। তবে ছাত্রীদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বা রাখা হয়েছে সে সম্পর্কেও ভিডিও বার্তায় কিছু বলেননি। এই ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে নাইজেরিয়া সরকার। নিখোঁজদের সন্ধানে সরকারের আরো তৎপর হওয়ার দাবিতে গত সপ্তাহে আবুজায় বিক্ষোভকারীদের এক নেতাকে নাওমি মুতাহকে কর্তৃপক্ষ সোমবার গ্রেপ্তার করেছে। এতে করে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরো ফুঁসে উঠেছে। গত ১৪ এপ্রিল নাইজেরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় বর্নো রাজ্যের একটি স্কুল থেকে তিন শতাধিক ছাত্রীকে অপহরণ করে জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারাম। চিবোক-এর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চড়াও হয় জঙ্গিরা। ৫৩ ছাত্রী পালাতে সমর্থ হলেও এখনও জঙ্গিদের হাতে বন্দি ২৭৬ জন। সূত্র: এপি, এএফপি, রয়টার্স Post navigation ক্ষমতার অপব্যাবহার, কাঠগড়ায় থাই প্রধানমন্ত্রী হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা লঙ্ঘন!