image_84747.munshiganjমেঘনা নদীতে দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে লঞ্চ ডুবিতে একই পরিবারের সাতজনের মধ্যে আলো বেগম নামের একজন তীরে উঠতে পারলেও বাকি ছয়জনই নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ ব্যাক্তিরা হচ্ছে, আলোর বেগম মেয়ে  মাহী (১৪), ভাগ্নে মানিক (১৪), মামাতো ভাই শাকিল (১৪), আরেক মামাতো ভাই সজিব (১১), দুই খালাতো বোন সোনিয়া (২০) ও সায়মন (৬)। তাদের সবার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ঘরিষাড় গ্রামে। তারা ঢাকার কালিগঞ্জ গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিল।
তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে কউে জানে না কেউ। নদীর তীরে উঠা যাত্রী আলো বেগমের বিলাপে মেঘনার বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। আলোর ভাই খোরশেদ আলমও ছিলেন একই সাথে। খোরশেদ আলমও তীরে উঠে আসতে পেরেছেন। আলো বেগমের স্বামী মিজানুর রহমান দুবাই প্রবাসী। তাদের মাহী এবং অন্য নিখোঁজ স্বজনদের নাম বলছে আর আলো বেগম বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। অনেকই মেঘনা তীরে বুক ফাটা আর্তনাত করছেন।
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের রাম ভদ্রপুর গ্রামের মো. আলী আকন তার ১১ বছরের একমাত্র পুত্রের চিকিৎসার জন্য কয়েক দিন আগে ঢাকায় আসেন। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফেরার পথে পিতা আলী আকন তীরে উঠতে পারলেও পুত্র নিখোঁজ রয়েছে। তার আহাজারিতে কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।
বেঁচে যাওয়া যাত্রী শাকিল আহমেদ জনান, দুর্ঘটনার ১০ মিনিট আগে থেকে যাত্রীরা লঞ্চটি মেঘনার তীরে বা পাশের খালে নিয়ে থামানোর জন্য বললেও লঞ্চের ছুকানি ও কেরানি কোনো কর্ণপাত না করে উল্টো যাত্রীদের ওপর উত্তেজিত হয়ে উঠে। শাকিল বলেন, কেরানি এবং ছুকানি যাত্রীদের ওপর উত্তেজিত হয়ে বলে যাত্রীদের কারণে লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটে। আপনারা অস্থির হবেন না। চুপ করে নিচে গিয়ে বসেন। এর কয়েক মিনিট পরেই লঞ্চটি উল্টে যায়। বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা সবাই এই লঞ্চ ডুবির জন্য লঞ্চের চালককে দায়ী করেছেন।
উদ্ধার হয়ে আসা লঞ্চ যাত্রী মো. শাহিন (৩০) জানান, ডুবে যাওয়ার আগে লঞ্চটি কাত হয়ে ছিল অন্তত সাত-আট মিনিট। এরপর পানি ঢুকে তলিয়ে যায়। এই সময় লঞ্চ যাত্রীদের বাঁচার আকুতি আর কান্নার রোল এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতি যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। তিনি সেই মুহূর্তটি মনে করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। বলেন, ভাই চোখের সামনে কতগুলো মানুষ মেঘনায় তলিয়ে গেল শুধু লঞ্চ চালকের কারণে। এমন ঝড়ে আরো অনেক লঞ্চই যাচ্ছিল। তারা ঝড় দেখেই নিরাপদে ছিল। কিন্তু ছোট লঞ্চ হয়ে চালক নিরপাদের বদলে বেশি সাহস দেখাতে গিয়ে ছিল।
এদিকে এই দুর্ঘটনায় মার যাওয়া প্রতিজনের পরিবারকে তাৎক্ষনিক ২০ হাজার টাকা প্রদানের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল। এ ছাড়া সরকারিভারে মারা যাওয়া প্রতি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী মো. শাহজাহান খান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *