বিশ্বকাপ নিয়ে বেশ খুব একটা স্বস্তিতে নেই ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তাই পায়নি, পরের ম্যাচে আরেক স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের কাছে স্রেফ উড়ে গেছে। একমাত্র জয়টি এসেছে আইসিসির সহযোগী দেশ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। বিশ্বকাপে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে রোববার শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচটি তাই ইংল্যান্ডের জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে মহাগুরুত্বপূর্ণ। শ্রীলংকার কাছে হেরে গেলে হয়তো তৎক্ষনাৎ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়বে না ইংলিশরা, তবে অনেক পিছিয়ে থেকে মনোবল অনেকটাই নিচে চলে যাবে নিশ্চিত। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে লংকান টপ অর্ডাররা যেভাবে খেলেছে তাতে স্বস্তিতেই আছে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজের দল। ইংল্যাকে হারাতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে লংকানরা। বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় ওয়েলিংটনে মুখোমুখি হবে দু’দল। ওয়েলিংটন এখন ইংলিশদের দুঃস্মৃতির অপর নাম। ক’দিন আগে এখানেই নিউজিল্যান্ডের কাছে তাদের লজ্জায় অধোবদন হতে হয়েছিল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ইংলিশ শিবিরে। সেঞ্চুরির পাশাপাশি বল হাতেও দারুন পারফর্ম করেছেন মঈন আলি। তবে বাকিদের অবস্থা তথৈবচ। স্বয়ং অধিনায়ক ইয়ন মরগান হতাশায় নিমজ্জিত। তিন ম্যাচে মাত্র ৩০ রান করেছেন গ্যারি ব্যালান্স। তাই ব্যালান্সের এ ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তার জায়গায় আসতে পারেন অ্যালেক্স হেলস বা রবি বোপারার মধ্যে কেউ। শুরুর দিকে শ্রীলংকার অবস্থাও ছিল নড়বড়ে। ইংল্যান্ডের মত তারাও প্রথম ম্যাচে হেরে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে। আফগানিস্তানের সঙ্গে হারতে হারতে জিতে গেছে। তবে লংকানরা উন্নতির রেখা দেখিয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। বিশেষ করে তিলকারতেœ দিলশান এবং কুমার সাঙ্গাকারা। দুই বর্ষিয়ানই বুঝিয়ে দিয়েছেন অভিজ্ঞতার দাম কত? দু’জনই অপরাজিত সেঞ্চুরি পেয়েছেন। চোটে পড়ে বিশ্বকাপ শেষ হওয়া জীবন মেন্ডিসের বদলি হিসেবে এরইমাঝে লংকান দলে যোগ দিয়েছেন উপুল থারাঙ্গা। এ ম্যাচেই তাকে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। পরিসংখ্যান বলছে, মেলবোর্নে ১৯৯২ বিশ্বকাপের ফাইনাল পাকিস্তানের কাছে হারের পর ইংল্যান্ড শীর্ষ আট দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে জয় পেয়েছে সাকুল্যে পাঁচবার। আর গত বছর হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে সিরিজ দুটোই জিতেছে শ্রীলংকা। তবে গতবছরের শেষের দিকে শ্রীলংকায় গিয়ে ইংল্যান্ড ৫-২ ব্যবধানে সিরিজ জিতে এসেছে। পরিসংখ্যান আসলে মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা কাজে লাগে সেটা সময়ই বলে দেবে। তার আগে মরগ্যান বেশ আত্মবিশ্বাসের সুরে বললেন, ‘আমাদের পারফরম্যান্স আরও ভালোর দিকেই যাচ্ছে।’ এখন দেখাই যাক তার সেই ভালোটা লংকানদের বিরুদ্ধে কতটা ভাল হয়? তবে বিশ্বকাপ সূচি নিয়ে তিতিবিরক্ত শ্রীলংকান ম্যানেজার মাইকেল ডি জয়সা, ‘অস্ট্রেলিয়া আসার আগে নিউজিল্যান্ডে খেলাটা শেষ করে এলে আমাদের জন্য ভাল হতো। এভাবে সূচি রাখা ছেলেদের জন্য ক্লান্তিকর।’ ইংল্যান্ড (সম্ভাব্য): ইয়ান বেল, মঈন আলী, গ্যারি ব্যালান্স, জো রুট, ইয়ন মরগান (অধিনায়ক), জেমস টেলর, জশ বাটলার, ক্রিস ওকস, স্টিভেন ফিন, স্টুয়ার্ট ব্রড এবং জেমস অ্যান্ডারসন। শ্রীলংকা (সম্ভাব্য): তিলকরতেœ দিলশান, লাহিরু থিরিমান্নে, কুমার সাঙ্গাকারা, উপল থারাঙ্গা/ডিমুথ করুনারতেœ, মাহেলা জয়াবর্ধনে, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস (অধিনায়ক), দিনেশ চন্ডিমাল, থিসারা পেরেরা, রঙ্গনা হেরাথা, সুরঙ্গা লাকমল এবং লাসিথ মালিঙ্গা। Post navigation মাশরাফিকে লাঞ্ছনা এবং ক্ষমা প্রার্থনা ছোট’দের চান ধোনিও তবে..