আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন ড্যানিয়েল ভেটোরি। বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষ করে দেশে ফিরে অবসরের ঘোষণা দেন নিউ জিল্যান্ডের এই বাঁহাতি স্পিনার।গত রোববার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭ উইকেটে হেরে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয় সহ-আয়োজক নিউ জিল্যান্ডের।

বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে মঙ্গলবার অকল্যান্ডে ফেরে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দল। অকল্যান্ড বিমানবন্দরেই ১৮ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ইতি টানার কথা বলেন ভেটোরি।

“এটা (বিশ্বকাপের ফাইনাল) ছিল নিউ জিল্যান্ডের হয়ে আমার শেষ ম্যাচ। এভাবে (ক্যারিয়ার) শেষ করাটা ছিল দারুণ।”

বিশ্বকাপ জয়ের রঙে ক্যারিয়ারের শেষ বেলাটা রাঙাতে পারেননি, তবে এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই ভেটোরির।

“জিতলে দারুণ ব্যাপার হতো। কিন্তু যেভাবে আমরা গত ছয়টি সপ্তাহ পার করেছি তাতে আমি সবাইকে নিয়ে খুব গর্বিত।”

বিদায় বেলায় দলের অধিনায়ক ম্যাককালাম আর কোচ মাইকে হেসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান নিউ জিল্যান্ডের এই কিংবদন্তি।

ভেটোরির অবসরটা আসলে কোনো বিস্ময় নয়। বরং চারদিকে এরকমই গুঞ্জন ছিল যে, বিশ্বকাপ শেষ করেই ৩৬ বছর বয়সী এই তারকা বিদায় বলে দেবেন। ভেটোরির বিদায়ে নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটে একটি অধ্যায়েরই যেন সমাপ্তি হলো।

নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটে ভেটোরি অধ্যায়ের শুরু ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। ১৮ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটন টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাব ঘটে তার। নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট খেলোয়াড়ের ওয়ানডে অভিষেক হয় পরের মাসেই।

ভেটোরি তার ক্যারিয়ারে ইতি টানলেন নিউ জিল্যান্ডের সর্বোচ্চ টেস্ট খেলা ক্রিকেটার হিসেবে। দেশের হয়ে ১১২টি টেস্ট খেলেন তিনি, আরেকটি টেস্ট খেলেন আইসিসি বিশ্ব একাদশের হয়ে।

নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে টেস্টে ৩৪.১৪ গড়ে ৩৬১ উইকেট শিকার করেন ভেটোরি। তার চেয়ে বেশি উইকেট পাওয়া নিউ জিল্যান্ডের একমাত্র ক্রিকেটার রিচার্ড হ্যাডলি, নিউ জিল্যান্ডের সাবেক এই ফাস্ট বোলার ২২.২৯ গড়ে নেন ৪৩১ উইকেট।

একটি জায়গায় অবশ্য হ্যাডলির চেয়েও অনন্য ভেটোরি। বিশ্বে টেস্ট ক্রিকেটে ৪ হাজার রান ও ৩০০ উইকেটের ‘ডাবল’ করা তৃতীয় খেলোয়াড় তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েন ভারতের কপিল দেব ও ইংল্যান্ডের ইয়ান বোথাম।

ওয়ানডে ক্রিকেটেও নিউ জিল্যান্ডের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার ভেটোরি; সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও তিনি। বিশ্ব একাদশের হয়ে খেলা ম্যাচটিসহ ২৯৫ ওয়ানডেতে ৩১.৭১ গড়ে ৩০৫ উইকেট নেন ভেটোরি।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও ভালো অবদান রাখেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই বাঁহাতি স্পিনার। ৩৪টি ম্যাচ খেলে নেন ৩৮টি উইকেট।

নিউ জিল্যান্ডের সবশেষ ৫টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডেই ছিলেন অনন্য এই ক্রিকেটার। ১৯৯৯ সালে কোনো ম্যাচ খেলেননি, তবে ২০০৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৩২টি ম্যাচ খেলে ৩৬ উইকেট নেন তিনি; এর মধ্যে এ বছরের বিশ্বকাপেই নেন ১৫টি উইকেট।

সাম্প্রতিক সময়ে চোট বেশ ভোগানোর পরও এবারের বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডকে তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলতে দারুণ ভূমিকা রাখেন ভেটোরি।

২০০৭ সালে নিউ জিল্যান্ড দলে অধিনায়ক স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের উত্তরসূরি হন ভেটোরি। অধিনায়ক হিসেবে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে ৩২টি টেস্ট ও ৮২টি ওয়ানডে খেলেন তিনি। ২০১১ সালে তার পরিবর্তে রস টেইলরকে অধিনায়ক করে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। REPORT:Jamilur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *