খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম উৎসব ও ছুটির দিন ইস্টার সানডে আজ। এ দিনে যীশুর পুনরুত্থান ঘটে। সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি পালন করে থাকেন।

দিনটি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কৃত্য পালন করা হয়। তবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিভক্তির সঙ্গে সঙ্গে দিবসটি পালনেও ভিন্নতা দেখা যায়। যেমন- ক্যাথলিকরা এর আগের চল্লিশ দিন উপবাস পালন, অনুতাপ ও প্রার্থনা করে থাকেন। যীশুর চল্লিশ দিনের উপবাস অনুসারেই এ উপবাস পালন করা হয়। মানুষের আধ্যাত্মিক মঙ্গল সাধনের জন্য এ চল্লিশ দিনের উপবাস, প্রার্থনা, ত্যাগ স্বীকার, প্রায়শ্চিত্ত ও অনুতাপের মধ্য দিয়ে জীবনকে মূল্যায়ন করা হয়। প্রায়শ্চিত্তকাল হল আত্মশুদ্ধির সময়। অর্থাৎ যীশুর পুনরুত্থানের জন্য নিজের আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। অন্যভাবে, যীশুর ক্রুশীয় মৃত্যু ও যাতনার কথা স্মরণ করে নিজের অন্তরে অনুতপ্ত হওয়া আর শুদ্ধ হয়ে ওঠার চূড়ান্ত সময়। তবে প্রট্যোস্টানরা উপবাস পালন করেন না। তাদের মতে, এ চল্লিশ দিনের শেষ সপ্তাহকে বলায় পবিত্র সপ্তাহ। এর মধ্যে পড়ে ইস্টার ট্রিডুম, হলি ট্রাসডে, শেষভোজ, পা ধৌতকরণ ও সর্বোপরি গুড ফ্রাইডে।

প্রচলিত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে ইস্টারের তারিখ নির্ধারিত হয় না। তাই কখনও কখনও পৃথিবীর পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে এটি আলাদা তারিখে পালিত হয়। প্রথমদিকের খ্রিস্টন, ইহুদি ও জেন্টাইলরা যে হিব্রু ক্যালেন্ডার অনুসরণ করত, তাতে খ্রিষ্টানদের কোনো বার্ষিক উৎসবের প্রমাণ নেই। দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝিতে এসে ইস্টার উদযাপনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

৩২৫ সালের রোমের ফার্স্ট কাউন্সিল অব নিচেয়াতে ইস্টার পালনের দিন নির্ধারিত হয়। এতে বলা হয়, মার্চের একুনিক্স (এ দিন দিন-রাত সমান থাকে) অনুসারে পূর্ণ চন্দ্রের (শেষভোজের দিন) পরের প্রথম রোববার হলো ইস্টার সানডে। পশ্চিমাঞ্চলে সাধারণত ইস্টারের সময় ২২ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে পড়ে। অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলের খ্রিস্টানরা নির্ভর করে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের ওপর। এখানে সাধারণত ৪ এপ্রিল থেকে ৮ মের মধ্যে দিনটি পড়ে।

দিনটির সঙ্গে ইহুদিদের পাসওভারের সম্পর্ক রয়েছে। এটা অনেকটা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনো কোনো ভাষায় ইস্টার ও পাসওভার অভিন্ন বা খুব কাছাকাছি। পাসওভারের দিনে ইহুদিদের ব্যাবিলনের বন্দীদশা শেষ হয়।

দিনটি খ্রিস্টান বিশ্বের সব জায়গায় পালিত হয়। এ উপলক্ষ্যে বিশেষ ভোজ ও চার্চ সাজানো হয়। যীশুর শূন্য কবরের প্রতিকরূপে ডিম সাজানো হয়। প্রার্থনা অনুষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন খ্রিস্টীয় সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এই বিশেষ দিনটি পালনের জন্য নানা কর্মসূচি পালন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *