nepal_earthquak_man_swadeshnews24 গত শনিবারের ভূমিকম্পের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা তিন হাজার ২০০ ছাড়িয়ে গেছে।

রাজধানী কাঠমান্ডুতে ঘর হারানো মানুষের ঠাঁই হয়েছে শহরজুড়ে তৈরি হওয়া ‘তাঁবুর শহরে’।

বিবিসির এক প্রতিবেদন জানায়, ফের ভূমিকম্পের আতঙ্কে তারা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতেও ফিরতে পারছেন না। তবে উদ্ধারকর্মীরা রোববারও রাতভর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নেপাল সরকারের আবেদনে সাড়া দিয়ে পৌঁছাতে শুরু করেছে ত্রাণ ও সহায়তা। কিন্তু ৮০ বছরের মধ্যে ভয়াবহতম এই ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে উদ্ধার ও ত্রাণকর্মীদের। ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে উদ্ধার করা গেলেও আহত বহু মানুষকে হাসপাতালে আশ্রয় দেয়া সম্ভব হয়নি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাতের পর আতঙ্ক নিয়ে তাঁবু আর খোলা আকাশের নিচে আরেকটি রাত কাটিয়েছেন ভূমিকম্প বিধ্বস্ত নেপালের বাসিন্দারা। তাদের অনেককেই জরুরি চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজের খোলা মাঠে তাঁবু খাটিয়ে তার ভেতরে অপারেশন টেবিলে কাজ করছেন চিকিৎসকরা।

হিমালয়ের কোলে ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষের এই দেশে রাজধানীর বাইরে প্রতন্ত এলাকার পরিস্থিতি কতোটা ভয়াবহ সে চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় ঠিকমতো খবর পাওয়া যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক আর পথ আগলে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে কিছু এলাকায় উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছাতে সময় লাগছে।

নেপালের কাঠমান্ডু এবং পোখরা নগরীর মাঝে শনিবার দুপুরে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকাও কেঁপে উঠে। এরপর রোববার পর্যন্ত তিন দফায় আরো ৩টি মাঝারি মাত্রার পরাঘাত অনুভূত হয়, যার মধ্যে একটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৭।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান রামেশ্বর ডাঙ্গাল জানিয়েছেন, সোমবার সকাল পর্যন্ত ৩ হাজার ২১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য তাদের হাতে এসেছে। এর বাইরে আহত হয়েছেন আরো অন্তত সাড়ে ছয় হাজার মানুষ।

শনিবারের ভূমিকম্পে ভবন ধসে, দেয়ালচাপা পড়ে এবং হুড়োহুড়িতে ভঅরত, চীন, তিব্বত ও বাংলাদেশে আরো কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

নেপালের পশ্চিম অংশের দুর্গম পার্বত্য এলাকার সঠিক পরিস্থতি জানা গেলে হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বরে ধারণা করা হচ্ছে।

নেপালে ভূমিকম্প দুর্গতদের সহায়তার জন্য একটি বিশেষ দল পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএইড প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে ১০ লাখ ডলার দিয়েছে। এছাড়া নরওয়ে দিচ্ছে ৩৯ লাখ ডলার।

বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর একটি দল ত্রাণ ও ওষুধ নিয়ে রোববারই নেপালে পৌঁছেছেন। সেনাবাহিনীর চিকিৎসকরাও রয়েছেন এই দলে। পাকিস্তানও চারটি বিমানে করে চিকিৎসক, খাবার, তাঁবু ও কম্বল পাঠিয়েছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারত কয়েকটি হেলিকপ্টারে করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল এবং ৪০ জন উদ্ধারকর্মীকে কাঠমান্ডু পাঠিয়েছে, তাদের সঙ্গে রয়েছে উদ্ধারকাজে প্রশিক্ষিত কুকুর। চীনের একটি উদ্ধারকারী দলও ইতোমধ্যে নেপালে পৌঁছেছে।

এছাড়া জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স, ইসরায়েল ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই দুর্যোগে নেপালের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *