29958সিলেটের আউশা গ্রামে সৌদি প্রবাসী মাশুক মিয়ার তিন ছেলে ও মেয়ে খাদিজাকে নিয়ে ছিল সুখের সংসার। কিন্তু সব কিছু ভেঙ্গে তছনছ হয়ে গেছে তাদের। এক সময়ের গৃহশিক্ষক শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা বদরুল পড়ানোর নামে উশৃঙ্খল আচরণ করায় তাকে বিদায় করে দেয়া হয়। এরপর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে সে। শেষ পর্যন্ত খাদিজকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাটিতে ফেলে নির্মমভাবে কোপায়।

ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে খাদিজা এখন মৃত্যুর সাথে লড়ছে। এ ঘটনায় বাকরুদ্ধ খাদিজার মা’সহ পরিবারের সবাই চান দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

যে মেয়েকে এক পলকের জন্য চোখের আড়াল করতেন না মা মনোয়ারা বেগম, সেই মেয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে হাসপাতালের বিছানায়। এখন আহাজারি করা ছাড়া আর কী করার আছে তার। আদরে বড় হওয়া মেয়ে খাদিজার এসএসসি পরীক্ষার আগে ভাল ফলাফলের জন্য গৃহশিক্ষক রাখা হয় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুনামগঞ্জের ছাতকের বদরুল আলমকে। কিন্তু শুরু থেকে তার আচরণে উশৃঙ্খলতা ধরা পড়ায় চার মাসের মাথায় তাকে বিদায় করে দেয়া হয়।

খাদিজার দ্বিতীয় ভাই সালেহ আহমদ বলেন, ‘যখন ক্লাস টেনে পড়তো তখন বিভিন্নভাবে খারাপ ব্যবহার করতো।’

খাদিজা চাচা বাবুল মিয়া বলেন, ‘সে নিজে একটা অমানুষ, সে কিভাবে মানুষ বানাবে আমাদের বাচ্চা। এটা টের পেয়েই হয়তো ওকে বিদায় করার একটা চেষ্টা করা হয়েছিলো।’

বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার পর বেপরোয়া হয়ে ওঠে বদরুল। মুঠোফোনে উত্যক্ত করতে থাকে খাদিজাকে। এতে বন্ধ করে দেয়া হয় খাদিজার ফোন।

যে বোন নাওয়া-খাওয়া করিয়ে দিতো, সেই বোন কাছে নেই। প্রতিমুহূর্ত কাটছে কষ্টে, আদরের ভাই, বোনদের। খাদিজার ছোট ভাই জুবায়ের আহমদ রাহাত বলেন, আমার বোনকে ছাড়া আমি ঘুমোতে পারি না, তাকে ছাড়া আমার ঘুম পায় না।’

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিস সোমবার এমসি কলেজ কেন্দ্র থেকে বিকেলে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে বের হয়। এরপরই কলেজ ক্যাম্পাসে শাহজালার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাবি শাখার সহ-সম্পাদক বদরুল আলম ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। অবশ্য পরে তাকে ছাত্ররা ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *