ক’দিন যাবৎ এক শ্রেণীর সুশীল বড় উতলা। অবশ্য উতলার কারনটি নতুন নয়, ছুঁতোনাতা পেলেই এরা নাওয়া-খাওয়া ভুলে কোরাশে সামিল হয়, এটি পুরনো আদত। উতলার বিষয়, “সরকার-বিএনপি সংলাপ”। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় সংলাপ নিয়ে বিএনপি’র চেয়েও শতগুণ বেশি শিরঃপীড়া সুশীলদের। আওয়ামী লীগ সংলাপের বিপক্ষে নয়, তবে এ দাবীর প্রেক্ষিতটি বিবেচনায নেয়া জরুরী। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু আজীবন গণতন্ত্রের চর্চা করেছেন, পরমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। নিষ্ঠুর প্রতিপক্ষ ইয়াহিয়ার সাথেও আলোচনায় বসেছেন। তাঁরই যোগ্য কন্যা দেশের নেতৃত্বে। লড়াই সংগ্রাম করেই মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছেন। আলোচনার বিষয়টি তাঁর চাইতে ভালো কে জানে? ২০১৩ সাল থেকে বিএনপি’র প্রতি হেন অনুরোধ নাই যা তিনি করেননি। বিএনপি নেত্রী সাড়া দিলেন না। তাহলে আজকে কেন সংলাপের জন্য এত আকুতি-মিনতি? স্বীকার করছি সংলাপ প্রয়োজন। কিন্তু সংলাপ তো সেদিনও প্রয়োজন ছিল, যেদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৩৭ মিনিট ধরে বেগম জিয়াকে সংলাপের দাওয়াত দিয়েছিলেন। সেদিন তো কোন বুদ্ধিজীবীকে একবারও বলতে শুনিনি, আলোচনার প্রয়োজন। সেদিন কেউই বেগম সাহেবার সমালোচনা করেনি। সরকারকে সংলাপে বসতে বলছেন, আপনাদের ধন্যবাদ। মাননীয় সুশীলবৃন্দ, আপনারা যে কারনে বেগম জিয়ার পক্ষে উকালতি করেন সেটি মুর্খ দেশবাসী কিছুটা হলেও বুঝতে পারছে। সব রাজনৈতিক দলই বলে তারা জনগনের জন্য রাজনীতি করে। বিএনপিও তাই বলে। কিন্তু গত ৮ বছরে দলটি গণ-মানুষের জন্য কি করেছে। বরং দলীয় নেতাদের বাঁচাতে, রাজাকারদের বাঁচাতে আগুন-বোমায় জনজীবন তছনছ করেছে। এগুলো কি গণ-মানুষের রাজনীতির প্রতিচ্ছবি? যারা প্রতিপদে সরকার উৎখাতে ব্যস্ত আজ তারা কিসের সংলাপ চায়? ঐ সব সুশীলদেরও বলিহারি যাই, একটি যুদ্ধাপরাধী সংগঠনের পক্ষে কথা বলতে যাদের এতটুকুও বাঁধে না, ঘৃণা জানাই আপনাদের শিক্ষা-দীক্ষা, রুচিজ্ঞানকে। সংলাপের বিষয় নিয়ে আমার আদৌ কোনো মাথা-ব্যাথা নেই। সরকার সময়ের দাবিকে অনুধাবন করেই সিদ্ধান্তে নিবে। নির্বাচন নিয়ে নতুন কোন সরকার ব্যবস্থার আমি ঘোর বিরোধী। পৃথিবীর বহু দেশে বিদ্যমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়, তেমনি আমাদের দেশেও হবে। তবে হ্যা, নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে চাইলে সকল রাজনৈতিক দল তাদের সুচিন্তিত মতামত দিতে পারে, এ ছাড়া সংলাপের কোন প্রয়োজন দেখছি না।। জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।। লেখকঃ আবদুল মালেক। কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। সহ সম্পাদনায়ঃ ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী। কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। Post navigation আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ – আবদুল মালেক।। ঝিনাইদহের করতোয়া শাখার স্টাফ তমাল হোসেন কয়েক লাখ টাকা নিয়ে উধাও !