nari ফোনে পরিচয়। ভাললাগা। ধীরে ধীরে পরিণয়। বিশ্বাস নিয়ে সংসার শুরু করেছিল মিথিলা। অল্পদিনেই ভুল বুঝতে পারে। সরল বিশ্বাসে মিথিলাকে ঠকিয়েছে মিজান। আগেও সে তিনটি বিয়ে করেছিল। চাকরি করে বলেছিল- তাও ছিল মিথ্যে। ততদিনে মিথিলার গর্ভে আরও একজন। নিয়তি মনে করে মেনে নেয় সবকিছু। নিজ স্কুলবন্ধু কাকলি ফাঁকে ফাঁকে আসে গল্প করতে। কিন্তু ডিভোর্সি সেই বান্ধবী একাকীত্বে টেনে নেয় মিজানকে। সুযোগ পেলেই নিজেদের কাছে টেনে নেয়। এ ঘটনা মিথিলা যখন জানতে পারে ততদিনে তাদের সম্পর্ক বহুদূর। কাকলি-মিজানের পরকীয়া রূপ নেয় বিয়েতে। প্রতারক মিজানের হাত থেকে রক্ষা পেতে, অন্যায়ের প্রতিকার পেতে মিথিলা মুখোমুখি হয়েছেন নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের। জানিয়েছে অভিযোগ। প্রতিবেদককে মিথিলা আরও জানায়, কাকলি বিবাহিতা। তার সন্তান আছে। স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও মিজান তাকে বিয়ে করে। স্বামীকে ডিভোর্স দেয়ার পর মিথিলার স্বামীর দিকে নজর পড়ে তার। একে অপরে প্রেমের সম্পর্কে ভাসতে থাকে। মিথিলা জানান, কাকলি আমাদের বাসায় প্রায় সময় আসতো। আমারা স্কুলে একসঙ্গে পড়াশুনা করতাম। সে সুবাদে তার সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। তখনই আমার স্বামীর সঙ্গে পরিচয় হয়। কিন্তু এ পরিচয় যে এতো দূর গড়াবে আমি বুঝতে পারিনি। আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না আমার বান্ধবী আমার সঙ্গে এমন করবে। তার জন্য আজ আমার সোনার সংসার ভেঙে ছারখার হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ৪ বছরের ছেলে মুশফিককে নিয়ে দিশাহারা মিথিলা নিজের অধিকার ও তার ছেলের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য অভিযোগ করেছেন নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলে। মিথিলা তার অধিকার ফিরে পেতে চান ঠিক। তবে তা মিজানের সংসারে গিয়ে নয়। মিথিলার একটাই চাওয়া মিজান তার সঙ্গে যে প্রতারণা করেছে তার শাস্তি যাতে সে পায়। গতকাল নারী নির্যাতন সেলে হাজিরা দিতে এসে এসব কথা বলে মিথিলা। অভিযুক্ত স্বামী উপস্থিত না হওয়ায় গতকাল শুনানি হয়নি। হাজিরা দিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে মিথিলাকে। একে একে ৪টি তারিখে উপস্থিত ছিল না মিজান। মিথিলার কাছে ঘটনাটি জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, মিজান আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সে আমার জীবনটাকে শেষ করে দিয়েছে। আমি চাই তার উপযুক্ত বিচার। মিথিলা বলেন, ২০০৭ সালে মিজানের সঙ্গে আমার মোবাইল ফোনে রং নম্বরে পরিচয় হয়। তখন মিজান আমাকে পরিচয় দিয়েছিল সে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব এর একজন সদস্য। ফোনে যোগাযোগের এক সপ্তাহের মাথায় সে আমাকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে যায়। আমারও এতে আপত্তি ছিল না। কারণ আমিও তাকে ভালবাসতাম। দু’জনের সম্মতিতেই ২০০৭ সালের ২৭শে মে আমরা কোর্ট ম্যারেজ করি। মিথিলার পরিবারও এ বিয়েতে রাজি হয়। প্রথম কয়েক মাস ভালই কাটে তাদের সংসার। মধ্যে ১ বছর তারা আলাদা থাকে এর কারণ ছিল বিভিন্ন সময় মিজান টাকা-পয়সার জন্য মিথিলাকে চাপ দিত। এসব কারণে মিথিলার পিতামাতা তাকে নিজেদের কাছে নিয়ে যায়। এরপর আবার মিজান মাপ চেয়ে ফিরে আসে মিথিলার কাছে। ২০০৯ সালের ২৮শে আগস্ট কাজী ডেকে তাদের বিয়ে পড়ানো হয়। ৩-৪ মাস তাদের সংসার ভাল কাটে। এরপর থেকেই একে একে বের হতে থাকে মিজানের সব মিথ্যা কথা। একেকটি করে প্রতারণার জাল খুলতে থাকে। সেসময় জানা যায়, সে কোন চাকরি করে না। পরিচয় গোপন রেখেছে। এমনকি আমার আগে সে আরও তিনটি বিয়ে করেছে। আমি তার চতুর্থ স্ত্রী। তাদের সবার সন্তান আছে। এসব কথা আমাকে কখনও বলেনি সে। মিথ্যে বলে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে সে। এসবকিছু জানার পরও আমি তাকে মাফ করে দিয়েছিলাম। কারণ তখন আমি ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নীরবে সব সহ্য করেছি। শুধু তাই নয় মিজানের নামে ৩-৪টি ডাকাতির মামলা ছিল। এ কারণে মাদারীপুরের শিবচর থানায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তখন আমার পিতা তাকে ছাড়ানোর জন্য দেড় লাখ টাকা দিয়েছে। এমনকি তাকে ব্যবসা করার জন্য আড়াই লাখ টাকা দিয়েছে আমার পরিবার। একপর্যায়ে এ ব্যবসায়ও লোকসান হয়। তখন আবারও টাকার জন্য মিথিলাকে চাপ দেয় সে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় মিথিলার ওপর চালায় শারীরিক নির্যাতন। মিথিলা তখন মিজানের কাছে আগের টাকা ফেরত চাইলে সে হুমকি দিয়ে বলে এ টাকা আমি দিবো না খেয়ে ফেলেছি, কি করতে পারিস কর। তখন থেকে তার নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়তে থাকে। মিথিলা জানান, সে শুধু আমাকে মারধর করেনি, আমাকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করানোর জন্য নারায়ণগঞ্জে নিয়ে গেছে। সেখান থেকে পালিয়ে আমি আমার পিতার বাসা মুগদায় চলে আসি। এ ঘটনার কিছুদিন পর ২০১৩ সালে সে আমার কাছে মাফ চেয়ে আমার পিতার বাড়িতে গিয়ে ওঠে। তখনই শুরু হয় নতুন গল্পের। আমারই বান্ধবীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে সে। আমাকে না জানিয়ে তাকে বিয়ে করে। এ ঘটনার পর থেকে মিজান গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে কাকলিকে নিয়ে। আমিও তার সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। এ বছরের মার্চ মাসে নারী নির্যাতন সেলে অভিযোগ দায়ের করেছি। আমার ছেলেকে পিতার আদর থেকে বঞ্চিত করেছে এর বিচার আল্লাহ করবে। মিজান এমন পিতা, তার সন্তানের খবর নেয়ার প্রয়োজন মনে করে না। আমার আর কিছুই নাই এই ছেলেই সবকিছু। তাকে নিয়েই বাঁচতে চাই। মাজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *