পদ্মা নদীর দু’পাড়ে এখন দারুণ ব্যস্ততা। এগিয়ে চলেছে বহুল আলোচিত পদ্মা বহুমুখী সেতুর কাজ। নদীর দু’পাশে সংযোগ সড়ক, পুনর্বাসন এবং প্রকল্প এলাকায় উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলছে পুরোদমে। মূল সেতু নির্মাণের জন্য চলছে নদীর বিভিন্ন অংশে মাটি পরীক্ষা। এখন পর্যন্ত যা কাজ হয়েছে, তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দৈর্ঘ্যের দিক দিয়ে মিসিসিপি আর কঙ্গোর পরেই অবস্থান এই পদ্মা সেতুর। তবে অনিশ্চয়তা আর বিতর্কে নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচে আলোচিত সেতুগুলোর একটি এই পদ্মা সেতু। সেই পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান বাস্তবতার নাম। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ১৯ জেলার প্রায় কোটি মানুষের স্বপ্ন বুকে নিয়ে চলছে যার নির্মাণ কাজ। দ্বিতল এই সেতু নির্মাণ হবে কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে, যার ওপরের অংশে ট্রেন আর নিচের অংশে চলবে যানবাহন। সেতু নির্মাণ হবে আগের মাওয়া ফেরী ঘাট থেকে। তাই এরইমধ্যে শিমুলিয়ায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে ফেরি ঘাট। আগের মাওয়ায় নেই তাই লঞ্চের সাইরেন আর যাত্রীর হাঁকডাক। <সেতু নির্মাণের আগে সেরে ফেলতে হবে সংযোগ সড়কগুলো। মাওয়া এবং জাজিরা- দুপাশেই প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলছে সংযোগ সড়কের কাজ। এই সড়কগুলো এবং অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সাড়ে ৩ বছর সময় বেধে দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট সংশ্লিষ্টরা। এপ্রোচ রোড সার্ভিস এরিয়া -১ এর সমন্বয়ক লে. কর্নেল মোঃ. ফেরদৌস-উর রহমান খান বলেন, 'ডিজাইন অনুযায়ী সড়ক যোগাযোগের কাজটি হচ্ছে, দুপাশে দুটি এপ্রোচ রোড সাথে সার্ভিস এরিয়া'। এছাড়া শিডিউল টাইম অনুযায়ী কাজ হচ্ছে এবং অগ্রগতি সন্তোষজনক হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, 'নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলেও জানান তিনি'। মাওয়া ও শিমুলিয়ার মধ্যবর্তী কুমারভোগ গ্রামে নদীর পাশে অফিস করেছে নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কস্ট্রাকশন কোম্পানি। জমি অধিগ্রহণ করে এ এলাকার লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ৫টি পুনর্বাসন এলাকার ২ হাজার ৫৯২টি প্লটে। প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি আসতে শুরু করেছে। মাটি পরীক্ষার কাজ শেষ হলে চলতি মাস থেকে শুরু হবে পাইলিংয়ের কাজ। চীনের তৈরি পাইল জার্মানির তৈরি ৩ হাজার টন ওজনের হাইড্রোলিক হ্যামার দিয়ে পাঠানো হবে ১২০ ফুট মাটির গভীরে। এরপর শুরু হবে উপরের অংশে সাব স্ট্রাকচার এবং সুপার স্ট্রাকচার নির্মাণ কাজ। চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির প্রকৌশলী মিস্টার মা বলেন, 'আমরা এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি জায়গায় মাটি পরীক্ষা করেছি, যেসব জায়গায় সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে সেসব জায়গায় পিলার বসানো হচ্ছে এবং সেই সাথে বাকি কাজও এগিয়ে চলছে'। আনা হয়েছে ভাসমান ক্রেনও। যেগুলো দিয়ে নির্মাণকাজের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি উঠানো নামানো হবে। Post navigation বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে রাজধানীতে খ্রিষ্টীয় নববর্ষ বরণ দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে’