সাদিয়া আফরোজ ,স্বদেশনিউজ২৪ঃবয়স মাত্র ১৮ বছর, অথচ এর মধ্যেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠেছেন পাকিস্তানের কিশোরী মালালা। বই বিক্রি আর বক্তৃতার পয়সায় সম্পদ অর্জন তাঁর! নোবেল বিজয়ী মালালা মাত্র তিন বছরে এত বেশি সম্পদ আয় করেছেন যে ইচ্ছে করলেই তাকে মিলিওনিয়ারদের তালিকাভুক্ত করা যায়। এ অর্থের বেশিরভাগই এসেছে তার জীবনীগ্রন্থ ‘আই অ্যাম মালালা’ বিক্রি থেকে। সালার্জাই লিমিটেড কম্পানি মালালার জীবনীগ্রন্থের স্বত্বটি দেখভাল করে। বই বিক্রি থেকে তাদের মোট মুনাফা এসেছে ১১ কোটি ৩৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এই কোম্পানিতে মালালা ও তার বাবা-মায়ের যৌথ মালিকানা রয়েছে। পত্রিকাটি জানায়, গত বছর আগস্ট মাসে ব্যাংকে ওই কোম্পানির অর্থের পরিমাণ ছিল ২২ কোটি ৭৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। সালার্জাই কম্পানিটি গঠিত হয়েছে ২০১৩ সালে। মালালার আত্মজীবনীমূলক বইটির স্বত্ব ছাড়াও এই কোম্পানিটি তার দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘মালালা ফান্ড’ এর তদারকি করে থাকে। গোটা বিশ্বের মেয়েদের নিরাপদ শিক্ষা নিশ্চিত করতেই এই ফান্ড গঠন করা হয়েছে। তিন বছর আগে প্রকাশিত মালালার জীবনীগ্রন্থ ‘আই অ্যাম মালালা’ সারা বিশ্বে বিক্রি হয়েছে ২৮ লাখ ৭ হাজার কপি। এই জীবনীগ্রন্থ থেকেই পান মোট ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।  শুধু বই বিক্রিই তার আয়ের একমাত্র উৎস নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েও তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ আয় করেন। ২০১৪ সালে সবচাইতে কমবয়সি হিসেবে শান্তিতে নোবেল পাওয়ার পর তার সম্মানি আরো বেড়েছে। এক একটি বক্তৃতা বাবদ তার আয় ১ কোটি ১৮ লাখ ৯ হাজার ২৬০ টাকা। সমসাময়িক কোনো নোবেল বিজয়ী ব্যক্তিকে বক্তব্য রেখে এত বেশি আয় করতে দেখা যায়নি। ২০১২ সালে তালেবান হামলায় গুরুতর আহত হন খাইবার পাখতুনখাওয়া এলাকার মেয়ে মালালা। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৪ বছরের মালালাকে তখন লন্ডন নিয়ে আসা হয়। সেখানকার এক হাসপাতালে মাথায় অস্ত্রোপচারের পর সেরে ওঠেন মালালা। ২০১৪ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। বর্তমানে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। লেখাপড়া করছেন লন্ডনের এডজবাস্টোন হাই স্কুলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *