000khola-chokh

শত প্রতিকুলতা সত্বেও দেশের অর্থনৈতিক ভীত অনেকটাই মজবুত। বহির্বিশ্বের সাথে সম্পর্ক যে কোন সময়ের তুলনায় উদার, বন্ধুত্বপূর্ণ। পৃথিবী জুড়ে  মার্কিনীদের দখলের রাজনীতির এই উৎকর্ষের সময়ে মেরুদণ্ড শক্ত রেখেই দেশ পরিচালনা করছে বর্তমান সরকার। চীন-জাপান আর রাশিয়ার সাথে করছে বিগ-ডিল। কপালে কি ভাজ পড়ছে আমেরিকা, ভারতের, সেটি খুব বিচিত্র নয়।

বিশ্বের একক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র। সব দেশই তোয়াজ করে, পারলে সকাল-সন্ধ্যা পা ধূয়ে দেয়। আমরা পারিনা, ওরা যে আমাদের জন্মের বিরোধী, সেই দগদগে ঘাঁ এখনো শুকায়নি। তাই আমরা যেমন তোয়াজ করিনা, ওরাও জিএসপি সুবিধা দেয়না, সমান সমান। তবে সেই পাকিস্তান আমল থেকেই বঙ্গোপসাগরে সেনা ঘাটির স্বপ্ন ছিল মার্কিনীদের। বর্তমানে চীন যেভাবে এগুচ্ছে তাতে মার্কিনীদের স্বপ্নে জল ঢেলে দিবার জোগাড়, টেনশন তো একটু হবেই।

প্রতিবেশী ভারত পরীক্ষিত বন্ধু। মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান দুনিয়ার জানা, আমরাও কৃতজ্ঞ। এখনো তারা সময়ের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। ধারনা ছিল, নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এলে বন্ধুত্বে চির ধরবে। কিন্তু না, তেমন ঘটেনি। তবে চাওয়া-পাওয়ায় ন্যায্যতাও মিলেনি এটাও অসত্য নয়। ভারতকে আমরা তাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দিয়েছি। বিনিময়ে বহু কাঙ্খিত তিস্তা চুক্তি এখনো ঝুলে আছে। বলা চলে শতভাগ দিয়ে দশমাংশও পাইনি। তবুও ধীরে চলার নীতি বাংলাদেশের।

অকারন বিরোধিতা পরিণামে বিপর্যয় আনে। কুটনৈতিক শিষ্টাচার ভুলে পাকিস্তান যেভাবে যুদ্ধাপরাধ বিচার নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করেছে, কুটনৈতিক সম্পর্ক থাকার কথা নয়। শেখ হাসিনা সে পথে যাননি। পাকিস্তান সন্ত্রাসী রাষ্ট্র,  বিশ্বব্যাপী নিন্দিত রাষ্ট্রের নাম। দ্যা হিন্দু পত্রিকায় শেখ হাসিনার সাক্ষাতকার বলিষ্ঠ কুটনীতির পরিচায়ক। তিনি সার্ক নিয়ে, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ভারতের হামলা নিয়ে কাটকাট জবাব দিয়েছেন কুটনীতির নর্ম মেনে। এটাই পরিপক্ব কুটনীতির প্রকাশ।

পরিপক্ব ও সৃজনশীল কুটনীতিই আমাদের অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছুতে সাহায্য করবে। বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্র নীতি, সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরীতা নয়। তিনদিকে পরমানু শক্তির দেশ, এ সময়ে সংযমী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থানই আমাদের কল্যান বয়ে আনবে। ভারত, চীন, জাপান, রাশিয়ার সাহায্য আমাদের প্রয়োজন। সৎ, সাহসী ও দুরদর্শী নেতৃত্বের সাথে চাই পরিণত কুটনীতি।।

জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।।

 

13256114_1792154611021106_7968467972793757044_n

  • লেখকঃ আবদুল মালেক। কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
  • সহ সম্পাদনায়ঃ ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী। কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *