পাটগ্রামের তিনবিঘা দহগ্রামে তিস্তায় নিহত বিজিবি সদস্য ল্যান্স নায়েক সুমন হত্যায়  থানায় গত শুক্রবার রাতে দায়ের করা মামলার এজাহারে দহগ্রাম সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগের যুগ্ম আহবায়ক হাবীবুর রহমানকে ১৩ নম্বর এবং বর্তমান ইউপি সদস্য হাবীবুর রহমান হবিকেসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাটগ্রাম কোম্পানী  নায়েক ওয়াহেদ মিয়া বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন |

আসামীদের মধ্যে বিজিবির হাতে আটক থাকা ১-৫নং আসামী সাইবালী,রফিকুল,তালেব, সোনামিয়াকে থানায় সোপর্দকরা হয়েছে। এদিকে,তৌজুল চৌকিদার পলাতক এবং নুরু ভ্যানচালক বিজিবি হেফাজতে রয়েছেন।এদিকে,তৌজুল চৌকিদার সহ অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছেন।গরু ব্যবসায়ি ও সিন্ডিকেট নেতাদের এ মামলায় আসামী করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে বাদী বলেন,ঘটনার সময় ২৬ জুন দিবাগত রাত অনুমান ১টার দিকে বিজিবির কোম্পানী কমান্ডার সুজাউল ইসলাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন দহগ্রাম তিস্তা নদীর আবুলের চর ডিএমপি ৬ নং সীমান্তের দিকে ভারতীয় গরু চোরাচালান হচ্ছে।সেখানে ১৫ বিজিবির হাবিলদার আনোয়ারের নেতৃত্বে সৈনিক উচ্চ প্রু মারমা ও ৬১ বিজিবি (সংযুক্ত) লান্সনায়েক সুমন,লান্সনায়েক টুটুল মিলে ৪ সদস্যের একটি টহল দল যায়।টহলদলে তৌহিদুল ওরফে তৈজুল চৌকিদার ও নুরু নামে দুজন পাবলিকও সঙ্গে গিয়েছিল।নির্জন এলাকায় যাওয়ার পর গরু ব্যবসায়িদের সঙ্গে বিজিবির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।এ সময় ওৎপেতে থাকা অজ্ঞাত গরু ব্যবসায়িরা দলবদ্ধভাবে সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান ও বিজিবি সদস্য সুমনের হাত পা বেঁধে মুখ চেপে ধরে গুম করা হয়।ওই রাতে ও পরের দিন অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান মিলেনি।২৮ জুন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩/৪ কিলোমিটার ভাটিতে পূর্বদিকে বিএসএফ একটি লাশ দেখতে পায়।বিজিবি সুমনের সনাক্ত করার পর বিএসএফ লাশ উদ্ধার করে দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।১৩ দিন পরে বিজিবি গোয়েন্দা তদন্ত প্রতিবেদন ও পুলিশের গোপন প্রতিবেদনের আলোকে হত্যা মামলা করা হয়।

পাটগ্রাম থানা তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ বিজিবির দায়ের করা হত্যা মামলাটি রেকর্ড করে ৪ আসামীকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানোর কথা স্বীকার করেছেন।

আরও উল্লেখ্য যে,গত ২০০৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ১৯ রাইফেল সদস্য পানবাড়ী বিওপির নায়েক মুন্সি আতাউর রহমান বিডিআরকে কুপিয়ে হত্যা করে পাশে সানিয়াজান নদীতে লাশ ফেলে দেয় সন্ত্রাসীরা।নড়াইল লোহাগড়া উপজেলার কোনদোষী গ্রামের বাসিন্দা আতাউর হত্যা মামলার আসামী ৭ জন জামিন নিয়ে অনেকে পলাতক রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *