দিনাজপুরের বিরলে ঘোড়া জবাই করে ঘোড়ার মাংস বিক্রি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘোড়ার মাংস খাওয়া যাবে- ধর্মীয় এমন অপব্যাখ্যা দিয়ে এই মাংস বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার মুসল্লিরা। এ নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় ঘোড়া জবাই ও এর মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত তাৎক্ষণিকভাবে দুই জনকে জনকে শাস্তি দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।
এদিকে এই ঘোড়ার মাংস কিনে খাওয়ার পর পুলিশের ভয়ে এখন পালিয়ে বেড়াছে ওই এলাকার প্রায় অর্ধশত মানুষ। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিরল উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, বিরলের কাজীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও কাঠব্যবসায়ী কাইয়ুম আলী শুক্রবার সকালে কাজীপাড়া এলাকায় একটি ঘোড়া জবাই করে। এ সময় তারা ঘোড়ার মাংস খাওয়া যাবে-ধর্মীয় এমন ব্যাখ্যা দিয়ে ২০০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করে।

দুপুরের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায় ঘোড়ার প্রায় দেড় মণ মাংস। এই মাংস নিয়ে গিয়ে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দুপুরে খান বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হলে স্থানীয় কাজীপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি লোকমান হাকিম বিরল থানায় অভিযোগ করেন। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতে ঘোড়া জবাই ও এর মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত কাজীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও কাঠব্যবসায়ী কাইয়ুম আলীকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড ও রায়হান আলীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

কাইয়ুমের ভাই রায়হান পুলিশকে জানান, ঘোড়াটি তার বড়ভাই কাঠ ব্যবসায়ী কাইয়ুম আলীর।

কাজীপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি লোকমান হাকিম জানান, ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এলাকার মানুষের কাছে এই ঘোড়ার মাংস বিক্রি করে তারা এলাকাবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

বিরল থানার ওসি এটিএম গোলাম রসুল মোবাইল বলেন, ভাই জীবনে বহু থানায় চাকরি করেছি। কিন্তু ঘোড়া জবাই করে ঘোড়ার মাংস বিক্রির এই বিরল ঘটনাটি বিরলে চাকরি করতে এসে দেখতে হল।

বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম রওশন কবীর সাংবাদিকদের জানান, ঘোড়া জবাই করা আইনগতভাবে নিষেধ আছে। এ বিষয়ে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *