শোবিজ ডেস্ক:দুঃখজনক হলেও সত্যি যে উপমহাদেশের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে রহস্যজনক মৃত্যু একটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ আমাদের দেশের কালজয়ী অভিনেতা সালমান শাহ থেকে শুরু করে পাশ্ববর্তী দেশের দিব্যা ভারতী, শ্রীদেবী, জিয়া খান অনেকেই পড়ে গেছেন এই দূর্ভাগ্যের চক্রে৷ প্রতিভার জোরে একটু জশ খ্যাতি বেড়ে গেলেই যেন রোশানলে পড়ে যান রাঘব-বোয়ালদের৷ কিন্তু হবার কথা ছিল ভিন্ন চিত্র৷ প্রতিভার কদর আর প্রশংসাই ছিল কাম্য৷ কিন্তু হচ্ছে ঠিক উল্টোটা৷ হিংসার অনলে জ্বলতে হচ্ছে কেউ অনন্য প্রতিভার অধিকারী হলে৷ কিন্তু এই অসুস্থ পরিবেশ যে কোনো শিল্পের জন্যই অত্যন্ত হুমকি স্বরূপ৷ শিল্প ও শিল্পের কদর করলেই তা সবার জন্য সামগ্রিক উন্নয়ন বয়ে আনবে৷
ছেলেবেলায় সাল্মান শাহ এর মৃত্যু ও প্রচন্ড নাড়া দিয়ে ছিল নকশীর মনে৷ কিন্তু তখন নিতান্তই বাচ্চা ছিলেন বলে করার কিছু ছিলনা৷ এখন আবার দেখলেন সুশান্ত এর ঘটনা৷ আর চুপ থাকতে পারলেন না৷ সুশান্ত এখানে প্রতীকী হলেও এর মাঝে সালমান শাহ এর মৃত্যু ও একটি ছায়া ফেলেছে৷
শিল্প ও শিল্পীর কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা থাকেনা৷ পাশাপাশি মার্টিন লুথার কিং এর বিখ্যাত উক্তিটিও বলতে হয় Injustice anywhere is a threat to justice everywhere. সে কারণেই ভারতের শিল্পী সুশান্ত সিং রাজপুতের রহস্যজনক মৃত্যুতে ও তার সাথে ঘটে যাওয়া সকল অবিচারকে মাথায় রেখে গান গাইলেন বাংলাদেশের শিল্পী নকশী৷
এছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তেই এই অভিনেতার মৃত্যুর বিচার চেয়ে জোর দাবী জানানো হচ্ছে৷

নকশী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক থেকে পড়শোনার পাঠ চুকিয়েছেন৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন থেকেই জড়িত ছিলেন নানান সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে৷
গানের মূল ভাবনা গায়িকার নিজেরই৷ তাতে চমৎকার কথা ও ছন্দ বিন্যাসের সমন্বয় ঘটিয়েছেন নিউরোসার্জন ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী যিনি পেশায় একজন ডাক্তার৷
ওদিকে ভারতের জনপ্রিয় সুরকার লিংকন রয় চৌধুরীর সুর ও সঙ্গীতায়োজনে একজন প্রতিভাবান, নিষ্পেশিত মানুষের জীবন চিত্রের কথা সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ফোকাস মাল্টিমিডিয়া স্টুডিওতে ১৮ জুলাই, ২০২০ শনিবার গানটির রেকর্ডিং ও ১৯ জুলাই, রবিবার গানটির ভিডিও ধারণ করা হয়।এ এ সপ্তাহেই সুশান্ত সিং রাজপুতের শেষ ছবি দিল বেচারা মুক্তি পাচ্ছে ২৪শে জুলাই৷ সেদিন নকশীর ও জন্মদিন৷ তাই এই দুটো দিক মাথায় রেখেই বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ও ইন্ডিয়ান সময়
৬:৩০ এ অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে গানটি মুক্তি দেওয়া হবে, চ্যানেলের নাম NOKSHI.

বলিউডে গুনী শিল্পীদের সাথে ঘটে যাওয়া নেপোটিসম, অন্যায় ও অন্ধকার দিক গুলো নিয়ে এই প্রথম কোনো মৌলিক গান তৈরি হল, যা আসলে আমাদের সমাজেও অহরহ ঘটে থাকে৷ আর আমাদের বিনোদন জগতে বলিউড একটা প্রভাব ফেলে এসেছে ছোট বেলা থেকেই৷ এ কথা অনস্বীকার্য৷ বাংলাদেশে শুধু এনটারটেইনমেন্ট বিক্রি করে ভারত প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে প্রতি বছর৷ তাই আমরা যে জিনিসের ভোক্তা তা নিয়ে কথা বলা যেতেই পারে৷ এছাড়া দুটি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন হতে পারে কিন্তু সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ- ভারত সবসময়ই মৈত্রীর পরিচয় দিয়ে এসেছে৷

এখানে সুশান্ত সিং রাজপুত প্রতীক হলেও ওমন ঘটনা আমাদের জীবনে বহুমানুষের সাথেই ঘটে থাকে৷ আমাদের সবার প্রিয় নায়ক বাংলাদেশের সালমান শাহ ই এর প্রকৃস্ট উদাহরণ!
তাই সব সংগ্রামী- মেধাবী শিল্পীদের জীবনের কথাই উঠে এসেছে এ গানে৷

তাঁরা তিনজনই বলেন জাতি-ধর্মের বিভেদ ভুলে নিজেদের মনুষ্যত্বের জায়গা থেকে গানটি করা।
এছাড়া সারা পৃথিবীতে নেপোটিসম ভুলে প্রতিভার কদরের আহ্বান জানানো হয়ে গানে৷

শিল্পী নকশী বলেন- এই ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী গান আমার আগে গাওয়া হয়নি। চমৎকার কথা, সুর এবং সংগীতায়োজনের মাধ্যমে প্রতিভাবান, সংগ্রামী শিল্পীর ও স্বজনপ্রীতির শিকারে ওষ্ঠাগত জীবনের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গানটি গাইতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে।
যারা যোগ্যতা থাকার পরও অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন এই গানটি সেসব প্রতিভাবান শিল্পীর থিম সং হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *