Pakistan-1কাপ শুরুর আগে বিতর্ক। সেই বিতর্কে জড়িয়েই পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক মঈন খান দেশে ফিরেছেন। বিশ্বকাপের মতো আসর চলাকালিনই সাবেক এই পাকিস্তান অধিনায়ক গিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের একটি ক্যাসিনোতে (জুয়ার আসর)। এটা ভালভাবে নেয়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তাকে দেশে ডেকে পাঠিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান।
একে তো ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স, তারওপর বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না মিসবাহ-উল-হকদের। বড় দুই হারে বিশ্বকাপে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে পাকিস্তান। তাই জিম্বাবুয়েকেও এখন অনেক বড় প্রতিপক্ষ মনে হচ্ছে মিসবাহ-আফ্রিদিদের! হওয়াটাই স্বাভাবিক, এই ম্যাচে পা হড়কালেই যে তাদের বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় নিতে হতে পারে! ব্রিসবেনের গ্যাবায় বাংলাদেশ সময় সকাল ৯.৩০ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি।
বিতর্ক আর পাকিস্তান হাত ধরাধরি করে চলে! পাকিস্তানের অতীত রেকর্ড সেই সাক্ষীই দেয়। তবে একটা জিনিস এই বিশ্বকাপে বেশ মিলে যাচ্ছে। ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তান যেবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেবারও পাকিস্তানের শুরুটা হয়েছিল অত্যন্ত বাজে। ১৯৯২ এর ওই বিশ্বকাপ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে। এবারও বিশ্বকাপের আয়োজক ওই দু’দেশই। পাকিস্তান সমর্থকেরা তাই আশা করছেন ৯২’র পুনরাবৃত্তিই ঘটাতে যাচ্ছে মিসবাহর দল! ২৩ বছর পর সেটা যদি হয় তাহলে পাকিস্তানে আনন্দের ঝরনাধারা বইবে!
আসলে এসবের সবই কল্পনা! ইমরানের সেই দলে কে কে ছিলেন আর এখন পাকিস্তান দলে কারা প্রতিনিধিত্ব করছেন সেদিকে একবার চোখ বোলালেই বাস্তবতা বুঝতে অত কষ্ট হবে না! তখন তরুণ ওয়াসিম আকরাম টগবগ করে ফুটছিলেন। সঙ্গে আকিভ জাভেদ-ওয়াকার ইউনিস। তরুণ ইনজামাম-উল-হকের স্বপ্নের বিশ্বকাপ অভিষেক। বিপরীতে আবার জাভেদ মিঁয়াদাদ, ইমরান, সেলিম মালিকদের মতো অভিজ্ঞরা। তারুণ্য-অভিজ্ঞর দারুন সংমিশ্রন ঘটেছিল ৯২ এর বিশ্বকাপে।
যে পেস আক্রমন সবসময়ই পাকিস্তানের অহংকার। তাদের অবলীলায় একের পর এক ব্যাটসম্যানরা এখন সীমানা ছাড়া করেন। ব্যাটিংয়ের অবস্থাও খুব একটা ভাল না। এরকম একটা ছন্নছাড়া দল নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও মহাটেনশনে থাকবেন পাক অধিনায়ক স্বাভাবিক। তারওপর জিম্বাবুয়ের রংই পাল্টে দিয়েছেন পাকিস্তান-বাংলাদেশের সাবেক কোচ ডেভ হোয়াটমোর। তাই শুধু জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ভাবলে চলবে না, হোয়াটমোরকে নিয়েও ভাবতে হবে পাকিস্তানকে।
জিম্বাবুয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের পর জিতেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিপক্ষে। যে দুটি ম্যাচে জিম্বাবুয়েনরা হেরেছে সে দুটি পাকিস্তানের মত অতটা জঘণ্য ছিল না। বরং তারা লড়ে হেরেছে। আর লড়াই করার এই সঞ্জীবনী শক্তি তাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন হোয়াটমোর। ‘তার (হোয়াটমোর) দলের সবার সম্পর্কে জানা আছে। কাজেই তাদের (পাকিস্তান) সম্পর্কে আমরা অনেক বেশি তথ্য পেয়েছি। মাঠে গিয়ে আমরা শুধু পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো’- বলেছেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরা। তবে পরিসংখ্যান কিন্তু জিম্বাবুয়ের পক্ষে কথা বলছে না। এ পর্যন্ত তারা পাকিস্তানের সঙ্গে তিনটি ম্যাচ জিতেছে। হেরেছে ৪২টিতে। একটি ম্যাচ টাই হয়েছে।
পাকিস্তান (সম্ভাব্য): আহমেদ শেহজাদ, ইউনিস খান/সরফরাজ আহমেদ, হারিস সোহেল, মিসবাহ-উল-হক (অধিনায়ক), শোয়েব মাকসুদ, উমর আকমল, শহীদ আফ্রিদি, ওয়াহাব রিয়াজ, ইয়াসির শাহ, সোহাইল খান এবং মোহাম্মদ ইরফান।
জিম্বাবুয়ে (সম্ভাব্য): সিকান্দার রাজা, রেগিস চাকাবা, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, ব্রেন্ডন টেলর, শন উইলিয়ামস, ক্রেইগ আরভিন, স্টুয়ার্ট মাৎসেকেনিরি, এলটন চিগুম্বুরা (অধিনায়ক), টিনাশে পানিয়াঙ্গারা, টেনডাই চাতারা এবং তাফাদজা কামুনগজি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *