143_82292ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সহপাঠীদের সাথে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বেড়াতে গিয়েছিলেন ঢাকা আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সাব্বির হাসান।

সেখানে আরও কয়েকজন বন্ধুর সাথে গোসলে নেমে নিখোঁজ হন তিনি সহ আরও পাঁচজন।

সাব্বিরের বাবা হাসানুর রহমান ও মা সেলিনা আক্তার এখন বলছেন ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে তাদের সন্তানও রয়েছেন।

আর তাদের এ দাবির মূল ভিত্তি হলো ঢাকার কয়েকটি সংবাদপত্রে ওই অভিবাসীদের প্রকাশিত একটি ছবি।

সাব্বিরের মা সেলিনা আক্তার বিবিসিকে পত্রিকায় প্রকাশিত একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, “আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি এটিই আমার ছেলে। ২৪ বছর ১ মাস ওকে দেখেছি, ওকে পেটে ধরেছি, আমি চিনবোনা? ও এভাবেই ঘরে শুয়ে থাকতো”।

সাব্বির হাসানের মা যে ছবিটিকে সাব্বির হাসানের বলছেন সেখানে আমি দেখতে পাচ্ছি একটি আশ্রয় শিবিরে একজন লুঙ্গি পরিহিত একজন শুয়ে আছেন।

বোঝাই যাচ্ছে দীর্ঘ সমুদ্র যাত্রার ধকলে হাড্ডিসার হয়ে গেছেন তিনি।তবে এটিই সাব্বির কি-না সেটি সম্পর্কে এখনো কোন ধরনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাব্বিরের সহপাঠীদের কয়েকজন জানিয়েছেন সাব্বিরসহ মোট ৩৪ জন সেন্ট মার্টিনে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে দুজনের মৃতদেহ তখনি উদ্ধার করা হয়।

দুদিন পর পাওয়া যায় আরও দুজনের মৃতদেহ।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি সাব্বির হাসান ও ইশতিয়াক বিন মাহমুদ।

সাব্বিরের বাবা সাবেক সরকারি কর্মকর্তা হাসানুর রহমান বলছেন তার ধারণা সাব্বির সেখানে অপহরণের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, “ওখানে অনেক দুষ্কৃতিকারী রয়েছে। এমনও শোনা গেছে যে উদয়কে (ইশতিয়াক বিন মাহমুদের ডাক নাম) নিয়ে যাচ্ছিলো দেখে সাব্বির গিয়ে প্রতিবাদ করেছে। পরে দুজনকেই মারধোর করে নিয়ে গেছে। শোনা কথা, বাই দা বাই”।

তিনি আরও বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বলেছি আমার ছেলে অসুস্থ। আপনার খালি গায়ে ছেলেটার খোঁজ নেন”।

মিস্টার রহমান জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে জানানো হয়েছে উদ্ধারকৃতদের মধ্যে চারশোর মতো ব্যক্তির একটি তালিকা বাংলাদেশের কর্মকর্তারা পেয়েছেন কিন্তু তার মধ্যে সাব্বিরের নাম নেই।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একটি ডেস্কের দায়িত্বে থাকা মহাপরিচালক আশুদ মাহমুদ বলছেন প্রায় ছয়শ অভিবাসীর একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরীক্ষা করে দেখছে যে আদৌ তাদের মধ্যে কোন বাংলাদেশী রয়েছে কি-না।

তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখছে উদ্ধারকৃতরা বাংলাদেশি কি-না। কোন ভাবেই বিষয়টা দৃষ্টির অগোচরে থাকবেনা”।

এদিকে সাব্বিরের বন্ধুদের অনেকেই উদ্ধারকৃত অভিবাসীদের ওই ছবির সাথে সাব্বিরের ছবি দিয়ে ফেসবুক সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাম্পেইন করছে পরিবারের দাবিটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য।

ফেসবুকে এমন একটি ছবির নীচে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাব্বিরের বিষয়ে খোজ নেয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *