অন্তঃসত্ত্বা মায়ের কাছ থেকে অনাগত সন্তানের শরীরে এইচআইভি ও সিফিলিস ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সফল হয়েছে কিউবা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান মার্গারেট চান এই সাফল্যকে জনস্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়, এই চিকিৎসা পদ্ধতির অংশ হিসেবে এইডস রোগের জীবাণু এইচআইভি ভাইরাস বা সিফিলিস আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের ওপর কয়েক বছর ধরে এ চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গর্ভকালীন সেবার অংশ হিসেবে এসব মায়েদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ দেওয়া হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশা করছে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও এ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করবে।

বিশ্বে প্রতি বছর এইচআইভি ভাইরাস বহনকারী প্রায় ১৪ লাখ নারী অন্তঃসত্ত্বা হন। চিকিৎসা না করালে গর্ভকালীন অবস্থায়, প্রসব ব্যথার সময়ে, প্রসবের সময় বা বুকের দুধ পান করানোর সময় মায়ের শরীরের ভাইরাস সন্তানের শরীরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ১৫ থেকে ৪৫ শতাংশ। কিন্তু যদি গর্ভকালীন অবস্থায় প্রতিষেধক ওষুধ গ্রহণ করা হয় তাহলে গর্ভের সন্তানের এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১ শতাংশ হলে কমে যায়।

একই সঙ্গে প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ১০ লাখ নারী সিফিলিসে আক্রান্ত হন। এ ক্ষেত্রেও আগাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার মধ্য দিয়ে মায়েরা তাঁদের অনাগত সন্তানদের ঝুঁকি এড়াতে পারবেন।

সরকারি তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে দেখা যায়, কিউবাতে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত মায়েদের সন্তানদের মধ্যে দুই শতাংশের কম শিশু এই ভাইরাস নিয়ে জন্ম নেয়।
বিশ্বজুড়ে অন্তঃসত্ত্বা প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে সাতজনই এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করে প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন। এই সংস্থার চিকিৎসক কারিসা ইতেইনে বলেন, ‘মা থেকে সন্তানের মধ্যে এইচআইভি ও সিফিলিস সংক্রমণ ঠেকাতে কিউবার এই অর্জন অন্য দেশগুলোর জন্য আজ অনুপ্রেরণা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *