আজকের শুক্রবার সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টি২০ ম্যাচে খুলনায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। সিরিজে ২-১ এ এগিয়ে রয়েছে মাশরাফিরা। শেষ ম্যাচ জিততে পারলে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলুড়ে কোন দেশের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজ জিতবে বাংলাদেশ। আর জিম্বাবুয়ে জিতলে, সিরিজ হারের লজ্জা এড়াবে সফরকারীরা। তাই সিরিজ নিয়েই চিন্তাটা বেশি বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের।
এদিকে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশ সহজ জয় পেলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য দুঃসংবাদ বয়ে নিয়ে এসেছিল তরুণ পেসার ও কাটার মাষ্টার খ্যাত মুস্তাফিজুর রহমানের চোট। তাই চার ম্যাচের টি২০ সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচের জন্য ১৪ সদস্যের দলে রাখা হয়নি বাঁহাতি এই কাটার মাস্টারকে।
মুস্তাফিজকে নিয়ে ক্রিকেট ভক্তদের হাজারো আগ্রহ, না খেললে শেষ অবধি মন খারাপই হবে অনেকেরই। তাই হয়তো একপ্রকার আশার বাতি জালিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে হঠাৎ করেই অনুশীলন করতে আসলেন মুস্তাফিজ। ইনজুরি নিয়েই সবাইকে অবাক করেই অনুশীলন করলেন একা একা।
রোববার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের শেষ বলটি করার আগে বাঁ কাঁধে অস্বস্তি অনুভব করেন মুস্তাফিজ। এক হাতে নিজের কাঁধ ধরে রাখতে দেখা যায় তাকে। মুস্তাফিজের সতীর্থ তামিম ইকবাল তখনই ছুটে গিয়ে মুস্তাফিজকে পরামর্শ দেন মাঠ ছেড়ে যেতে।
প্রথম দুই ম্যাচের পর আকস্মিক ইনজুরি তাই সাতক্ষীরায় নিজের গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে চেয়েছিলেন তরুণ এ পেসার। কিন্তু বিসিবি দলের এ পেস বোলিং এর মূল ভরসাকে নিয়ে কোন ঝুঁকি নিতে চায় নি। তাই তাকে সাতক্ষিরায় যেতে দেয়া হয় নি। পরিবর্তে মুস্তাফিজকে ঢাকায় চোটের চিকিৎসার জন্য পাঠানোর প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু মুস্তাফিজ তাতে রাজি হন নি। তিনি দলের সঙ্গে খুলনাতেই থেকে যেতে চান। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে তাঁর এ ইচ্ছাতে সানন্দেই রাজি হন এবং তাঁকে দলের সাথেই রেখে দেন।
সুত্র বলছে, তামিমের পাশাপাশি মুস্তাফিজুরকে হয়তো শেষ ম্যাচ খেলানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজুমল হাসান পাপন। সেই জন্যই আজ কাটার মাস্টারের বাড়তি প্রস্তুতি।
শেষ দুই ম্যাচের দলে না থেকেও তাই দলের ছায়া হয়েই আছেন মুস্তাফিজ। বল না করলেও অনুশীলনে যাচ্ছেন, খেলার দিন মিশে থাকছেন দলের সঙ্গে। এমনকি আজ সকালে সিটি ইন হোটেলে দলের ‘রিভিউ মিটিংয়ে’ও উপস্থিত হতে দেখা গেল তাঁকে।
কাঁধের ব্যথা এখনো পুরোপুরি যায়নি। ফিজিও-ডাক্তাররা চাইলে ব্যথাটা সাময়িকভাবে কমিয়ে মুস্তাফিজকে মাঠে নামানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে বলেই ঝুঁকিটা নেওয়া হচ্ছে না। যদিও দল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, সবাইকে চমকে দিয়ে মুস্তাফিজকে মাঠে নামানোর চেষ্টা হতে পারে কালকের শেষ ম্যাচে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের ভেতরকার চিত্রটা ছিল একটু ভিন্ন। যেখানে অন্য সময়ে সকাল দশটা থেকে বিকেল পর্যন্ত বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে উভয় দলের ক্রিকেটার ও ভক্তদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে ওঠে। অথচ শেষ ম্যাচর আগেরদিন সেখানে কারোর দেখা নেই। শুধু কয়েকজন মাঠকর্মী ও কিছু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছাড়া।
ঠিক এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই মাঠে আগমন কাটারবয় মুস্তাফিজুর রহমানের। একই সঙ্গে ফিল্ডিং কোচ রিচার্ড হ্যালসল ও ফিজিও বায়েজিদুল ইসলামের। মুস্তাফিজ জিম সেশন শেষ করে বাকি দুজনকে নিয়ে কুড়ি মিনিটের মতো রিহ্যাব অনুশীলন করলেন। কাটার মাস্টারের ভাব-ভঙ্গি দেখে বোঝা গেল শুধু রিহ্যাব নয়। আরো কিছু অপেক্ষা করছে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে।
মুস্তাফিজের কাঁধের ইনজুরি প্রসঙ্গে ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম বলেন, ‘আজ সে রিহ্যাবে এসেছে। ঘন্টাখানেক জিম করার পর কিছুটা বোলিং করেছে রিহ্যাবের শর্ত মেনে। তবে তার ঠিক হতে কিছুটা সময়তো লাগবেই।’
নিজের বা কাঁধের ইনজুরির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মুস্তাফিজ সাংবাদিকদের জানালেন, ‘রিহ্যাব করছি। তবে বাম কাঁধে সামান্য ব্যথা আছে।আমার ভীষণ রকমের চেষ্টা আছে। দেখি কি হয়। ’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচ খেলেছিলেন এই কাটারবয়। দুই ম্যাচে পেয়েছিলেন চারটি উইকেট। তবে তৃতীয় ম্যাচে আল-আমিন হোসেন ও মুস্তাফিজের পরিবর্তে খেলেছিলেন টি২০তে অভিষিক্ত তিন পেসার আবু হায়দার রনি, মুক্তার আলী ও মোহাম্মদ শহীদ। তবে এদিন বাংলাদেশের পেস বোলিং অ্যাটাক অতোটা আলো ছাড়াতে পারেনি। যতোটা ছড়িয়েছিল মুস্তাফিজ ও আল-আমিনের বোলিং।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় টি২০ ম্যাচে নতুন পেসারদের খেলা সম্পর্কে মুস্তাফিজ জানালেন ‘কোচ যাকে ভালো মনে করেছে তাকে খেলিয়েছেন। তাই জাতীয় দলে কে খেলবে না খেলবে সেটি কোচের একান্ত ব্যাপার।’
শুক্রবার সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টি২০ ম্যাচে খুলনায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। সিরিজে ২-১ এ এগিয়ে রয়েছে মাশরাফিরা। শেষ ম্যাচ জিততে পারলে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলুড়ে কোন দেশের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজ জিতবে বাংলাদেশ। তবে সমতা আনতে মরিয়া জিম্বাবুয়েও। তৃতীয় ম্যাচে পাঁচটি পরিবর্তন এনে ধরা খেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে শেষটাতে হয়তো বিপথে যাবে না টিম ম্যানেজম্যান্ট। তামিম-সানি খেলবে, এটা প্রায় নিশ্চিত। তার সঙ্গে বড় চমক হিসাবে আবির্ভূত হতে পারে মুস্তাফিজুর রহমানও।
