২০১৬ সালের ২৯ জানুয়ারি, শুক্রবার। নৈমিত্তিক অভ্যাসের বসে
প্রচণ্ড ঠাণ্ডাকে উপেক্ষা করে সূর্য উঠার আগেই রওনা দিলাম কেরানীগঞ্জ এ।
সাথে অমিত কুমার নিয়োগী দাদা এবং ছোটভাই আরাফাত রহমান খান। উদ্দেশ্য ছিল, পাখি দেখা। সাথে সুযোগ হলে কিছু ছবি তোলা। দাদা অবশ্য আগের রাতেই বলে রেখেছিলেন কাল নাকি আমাদের জন্য চমক আছে। কী চমক তখন বুঝিনি, দাদাকে এটা নিয়ে অবশ্য ঘাঁটাইওনি! পরে বুঝেছিলাম যে আজ ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছি আমরা ৩জন।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ ডাঃ সাজিদ রেজওয়ান
ছবি কৃতজ্ঞতাঃ ডাঃ সাজিদ রেজওয়ান

যাই হোক, সেই কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে শীতে কাঁপতে কাঁপতে কেরানীগঞ্জ পৌঁছে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে রওনা দিলাম মেঠো পথ ধরে। মিষ্টি রোদের আলো, কুয়াশায় সিক্ত মাটি আর সাথে হাজার পাখির কলকাকলি- সত্যি যেন মনে হচ্ছিল আমরা স্বর্গের কোন বাগানে চলে এসেছি।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ অমিত কুমার নিওগি
ছবি কৃতজ্ঞতাঃ অমিত কুমার নিওগি

হঠাৎ বালির মধ্যে কিছু একটা দেখে দাদা আমাকে ডাক দিলেন। ওমা! এ দেখি প্রজাপতি- এত ছোট যে চোখে দেখাই কষ্টকর। এরপর খুব সাবধানে ক্যামেরা নিয়ে আমরা ৩জনই ওকে ফলো করতে থাকলাম, আর সুযোগ হলেই কিছু ছবি।
প্রজাপতি পাগল এই অমিতদা ঘুরতে ঘুরতেই বলছিলেন এর সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য।received_10154033411677381

Oriental Grass Jewel এর বৈজ্ঞানিক নাম Freyeria putli. বাংলা নাম নেই। তবে এর বাংলা নাম দেওয়া যেতে পারে পূর্বদেশীয় ঘাস মণি। আমাদের দেশের প্রজাপতির তালিকায় এটি সংযুক্ত হয়েছে বেশ কিছুদিন হয়েছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারী মাসের ২৪ তারিখ এটি প্রথম ঢাকা জেলার অদূরে কেরানীগঞ্জ থেকে নথি ভুক্ত হয়।
এরপর আরও অনেক বার কেরানীগঞ্জ গেছি, তবে এই প্রজাপতিটির সাথে সাক্ষাৎ হয় নি। অনেক খোঁজা খুঁজির পর অবশেষে অমিতদার নেতৃত্তে দ্বিতীয় বারের মতো আমরা আবার খুঁজে পেলাম এই ‘ছোট-রত্ন’ কে-যা আমাদেরকে দ্বিতীয়বারের মতো নথিভুক্ত করার সুযোগ করে দিল।
যদিও এই প্রজাপতিটি বাংলাদেশে পাওয়া যাবে এমন আশা আগেই ব্যক্ত করেছিলেন প্রয়াত প্রখ্যাত প্রজাপতিবিদ টরবেন বি লারসেন ২০০৪ সালে তাঁর লেখা বাংলাদেশের প্রজাপতির তালিকায় যেটা প্রকাশ করা হয়েছিল IUCN থেকে । Oriental Grass Jewel এর পাখার ব্যাস ১৫ থেকে ২২ মিলিমিটার। পুচ্ছ পাখনার শেষের দিকে ৪ টি ধাতব রঙ্গের দাগ দেখা যায় যেটা প্রথমে কাল এবং পরে হলুদ রঙ দ্বারা চক্রাকারে বেষ্টিত থাকে। অন্যান্য গ্রাস ব্লু গুলোর মতই এই প্রজাপতিটির উন্মুক্ত ঘাস বেষ্টিত মাঠ বাসস্থান। এরা সাধারণত Boraginaceae এবং Fabaceae বর্গের উদ্ভিদের পাতায় ডিম পাড়ে। তবে বাংলাদেশে এর Host Plant এখনও আবিষ্কৃত হয় নাই। সবচেয়ে মজার বিষয়টি হল এটি বাংলাদেশ তথা ভারতীয় মহাদেশে প্রাপ্ত সবচেয়ে ছোট আকারের প্রজাপতি। ভারতে দুই প্রজাতির grass jewel পাওয়া যায় একটি Freyeria putli ও Freyeria trochylus । তবে আমাদের দেশে Freyeria trochylus এখনও পাওয়া যায় নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *