অর্জন দিয়েই নির্ধারিত হয় নেতার অবস্থান। সে হিসাবে বেগম জিয়া হেলাফেলা কেউ নন। তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী, দু’বার বিরোধি নেত্রী, সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট জিয়ার পত্নী। যিনি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৯ দিন পর সেনাপ্রধান, নভেম্বর-‘৭৬, ছিনতাই করেন প্রধান সামরিক অাইন প্রশাসকের পদ। ‘৭৭সালে দখল করেন রাষ্ট্রপতির গদিও। এহেন মানুষের যোগ্যপত্নী বালির ঘরের অাশা করবেনই !!
বেগম জিয়ার গুণের অন্ত নাই। সে গুনের কারনেই তিনি অাবারো বাংলাদেশের ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখেন। প্রতিনিয়ত মিথ্যার বেশাতি করে সত্য চাপা দিয়ে মসনদে বসার ষড়যন্ত্র করেন ‘মোসাদ’ নামের কলঙ্কের সাথে মিশে। তিনি এখনো বুঝতে পারছেন না কতটা তপ্ত বালির উপর তার অবস্থান, যে বালিতে কখনোই গৃহনির্মাণ সুখকর হয়না। কি অর্জন তার? একমাত্র রূপচর্চা ব্যতিত দেশে-বিদেশে বলার মতো কিছুই নেই।
বিএনপি নামক দলটি কি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত কেউই জানেনা কেবলমাত্র পাকিস্তান তোষন ও ভারত বিরোধিতা ছাড়া। দলটির প্রয়াত প্রধানকে মহামান্য অাদালত অবৈধ রাষ্ট্রপতি বলেছে। বেগম জিয়া তারই উত্তরসুরী। মহান মুক্তিযুদ্ধে যে জিয়াকে বলা হয় অনুপ্রবেশকারী গোয়েন্দা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারিদের মন্ত্রণাদানকারি, রক্ষাকারী, পুনর্বাসনকারি মেজর জিয়ার পত্নীই তো তিনি। অারো ক্ষমতা অাশা করেন তিনি?
মার্কিন অবমুক্ত দলিল সাক্ষ্য দেয়, “‘স্বাধীনতার অল্প পরেই জিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় ঘাতক ফারুক-রশীদ মার্কিন দুতাবাসে অস্ত্রের জন্য ধরনা দেয়।” ঐ দলিলে অারো অাছে, “৭৫-র পর কিসিঞ্জার জিয়াকে তার পুরনো বন্ধু বলে অাখ্যায়িত করেন”। এ কথা অনস্বীকার্য, স্বাধীনতাবিরোধিদের এ দেশীয় দোসর জিয়া, এরশাদ, বেগম জিয়া। স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ এতোটা ভুলোমনা নয়, বেগম সাহেবা।

বেগম সাহেবার অর্জন দেখেছেন কি ! পাঁচবার জন্মের কৃতিত্ব কার অাছে? লজ্জায় মরি, তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী!! অার কি অাশ্চর্য বিএনপি এই পাঁচবারের জন্মকাহিনী অস্বীকারও করেনা, what a shame? দেশজুড়ে ঘৃণা, ছিছি’র ঝড় বয়ে গেলে এবার ১৫ অাগস্টের রংচঙে কেক কাটা বাদ দেন, বঙ্গবন্ধুর চেয়েও জনপ্রিয় হবার লোভে ভাটা পড়ে। এত কিছুর পরেও কি শুকনো বালির ঘরটি নির্মিত হয় কি-না তাই এখন দেখার বিষয়। নিপাত যাক মিথ্যা, প্রতিষ্ঠা পাক সত্য।।
জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।।
- আবদুল মালেক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। সম্পাদনায়ঃ ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী, উপদেষ্টা- স্বদেশনিউজ২৪.কম

