high_courtদেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারপতি সংকট দেখা দিয়েছে। অবসর, মৃত্যু এবং দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ থাকায় এ সংকটের প্রধান কারণ। এর ওপর আবার এবছরই অবসরে যাচ্ছেন ৭ জন বিচারপতি। ফলে ৯৭ জন বিচারপতি দিয়ে পাঁচ লক্ষাধিক মামলা পরিচালনা করছে সুপ্রিমকোর্ট।
সিনিয়র আইনজীবীরা বলছেন, দ্রুতই বিচারপতি নিয়োগ না দিলে উচ্চ আদালতে মামলা জট আরো তীব্র হবে। এতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন বিচার প্রার্থীরা। আইনমন্ত্রীর আশ্বাস, বিচারপতি নিয়োগে আইন তৈরি করে, অচিরেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
উচ্চ আদালতে বিচারপতির সংকট কাটাতে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ৮ জন বিচারপতি নিয়োগের সুপারিশ করেছিল সুপ্রিমকোর্ট। যা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
আপিল বিভাগে এগারোজন বিচারপতি থাকার কথা থাকলেও এখন আছেন ৮ জন, যাদের মধ্যে দুজন বিচারপতি অবসরে যাবেন অল্প সময়ের মধ্যে। গতবছর নতুন একটি এজলাস তৈরি করা হলেও এখনো অব্যবহৃত পড়ে আছে। হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম চলছে ৮৯ জন বিচারপতি দিয়ে। যার মধ্যে এ বছর অবসরে যাচ্ছেন ৫ জন। ফলে দুই বিভাগ মিলে ৭ জন বিচারপতি যাচ্ছেন অবসরে।
সিনিয়র আইনজীবীরা বলছেন, দুই বিভাগে ৫ লাখেরও বেশি মামলার বিপরীতে বিচারকের এ সংখ্যা অপ্রতুল। তাদের দাবি, দ্রুত বিচারপতি নিয়োগের।
সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, কোন অবস্থাতেই যেনো মামলার জট না বাড়ে আর। এমনিতেই মামলার জট রয়েছে। সে অবস্থা বিবেচনা করে বিচারপতি নিয়োগ দেয়া উচিত। আরেক আইনজীবী বলেন, রাষ্ট্রপতি এটা তার নজরে নিয়ে অধিক সংখ্যক বিচারক নিয়োগ দেবেন এটাই তার প্রত্যাশা।
আইনমন্ত্রী জানান, বিচারপতি নিয়োগে আইনি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে।বিচারপতি সংকট হলেই সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শক্রমে প্রচলিত নিয়মে নিয়োগ দেয়ার কথাও জানালেন তিনি।
তিনি বলেন, যখনই প্রয়োজন তখনই বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হবে। পাশাপাশি বিজ্ঞ বিচারপতি নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে একটা আইন এই বছরের মধ্যে হবে।
দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ করা না গেলে মামলাজট আরো তীব্র হবে সর্বোচ্চ আদালতে। ন্যায়বিচারের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে বিচার প্রার্থীরা এমনটাই মত সিনিয়র আইনজীবীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *