452 আষাঢ়ের শেষ দিকে এসে রাজশাহীতে শুরু হয়েছে অবিরাম বৃষ্টি। বুধবার রাত ১টা ২০ মিনিট থেকে বৃষ্টি শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলছিলই। এতে রাজশাহী মহানগরীর অনেক এলাকায় পানি জমে গেছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১১৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার। এ মৌসুমে একদিনে এতো বৃষ্টি আর কখনোই হয়নি।
এদিকে বৃষ্টির কারণে কর্মচঞ্চল নগর জীবনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। বিশেষ করে দিনমজুর শ্রেণির মানুষের কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও উপস্থিতি কমেছে শিক্ষার্থীদের। খুব জরুরি কাজ ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরেও বের হচ্ছেন না।
নগর ঘুরে দেখা গেছে, সাহেববাজার, বিন্দুর মোড়, শালবাগার, রাজশাহী পলিটেকনিক, সপুরা, উপশহর, তেরখাদিয়া, বিলশিমলা, লক্ষীপুর, ভাটাপাড়া, সিটিবাইপাস, টিকাপাড়া, মেহেরচন্ডি, তালাইমারি, বিনোদপুরসহ বেশকিছু এলাকা হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে আছে।
এদিকে সুযোগ বুঝে অটোরিকশা ও রিকশাচালকরা গলাকাটা ভাড়া আদায় করছেন। অন্যদিনের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করছেন রিকশাচালকরা।
তারা বলছেন, বৃষ্টিতে ভিজে একদিন রিকশা চালালে অনেক সময় জ্বর-সর্দিসহ নানা ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে এক সপ্তাহ বিছানায় পড়ে থাকতে হয়। এ জন্যই নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
এদিকে নিজেদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে নগরীতে স্তূপ জমেছিল আবর্জনার। বৃষ্টিতে সেসব আবর্জনা ছড়িয়ে পড়েছে সব জায়গায়। এতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে আরও বেশি।
বিনোদপুরের বাসিন্দা রইস উদ্দিন আহমেদ জানান, সকাল ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে দেখেন গোটা রাস্তা বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। পয়ঃনিষ্কাষণ ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা তাতে মিশে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধময় পানি ভেঙে তাকে যেতে হয় কর্মস্থলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *