খালেদা জিয়া জীবনদর্শনে বিশ্ব নারীর প্রেরণার উৎস”

নিউজ ডেস্ক, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান:

বিশ্বের ইতিহাসে কিছু মানুষ কেবল ক্ষমতার কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, তাঁরা হয়ে ওঠেন সময়ের বিবেক, বিশ্বের নৈতিক মানদণ্ড কিংবা শান্তির পায়রা। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার তেমনই এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। আলেম-ওলামাদের প্রতি সম্মান, পূজারী পুরোহিত থেকে দেশের সকল শ্রেনীর মানুষকে সঠিক মূল্যায়নের নাম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সকল ধর্মের পবিত্রতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, জেল জুলুম, সংকটকালে অসীম ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস-এই স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও নেতৃত্ব। এসব গুণই তাঁকে দেশবাসীর চোখে সর্বশ্রেষ্ঠ নারীদের একজন হিসেবে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি ছিল মূল্যবোধনির্ভর ও শান্তির ফুলকি। এখানে ক্ষমতা লক্ষ্য নয়, বরং দায়িত্ব ছিল মুখ্য। সততা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার এক দৃঢ় সমন্বয় তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে। ত্যাগের মহিমা আর দায়িত্ববোধের গভীরতা দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন-রাজনীতি কেবল কৌশলের খেলা নয়, এটি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিঃশেষ করে দেওয়ার এক কঠিন ব্রত। বাঙালি সংস্কৃতি, পরিবারব্যবস্থা ও সামাজিক বন্ধনকে আগলে রাখার যে নিষ্ঠা তিনি দেখিয়েছেন, তা সমগ্র বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত। একটি প্রজন্ম পশ্চিমা সংস্কৃতির মধ্যে বড় হলেও পরিবারের সবাইকে বাংলাদেশের সংস্কৃতির মধ্যেই রেখেছেন। দেশপ্রেম ও মানবসেবায় বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন নিঃস্বার্থ, নীরব ও মানবিক। দয়া, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা তাঁর রাজনীতিকে করেছে প্রাণবন্ত আর শান্তি ছড়িয়েছে বিশ্বে। জ্ঞান, সংগ্রাম ও অগ্রগতির আদর্শে অবিচল থেকে তিনি নারীর সক্ষমতাকে কেবল জাতীয় পর্যায়েই নয়, বৈশ্বিক পরিসরে শান্তি ও মর্যাদার আসনে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে অধ্যবসায় ও বিজ্ঞানমনস্কতা ছিল অগ্রগতির হাতিয়ার, আর ব্যাক্তিত্ব- আত্মমর্যাদা ছিল শক্তির উৎস। নিরক্ষতা মুক্ত একটি দেশ গড়া, দেশের সমগ্র নারীদের শিক্ষায় গ্রহনে নানা কৌশল সহ দেশের নারীশিক্ষায় , সামাজিক সংস্কার ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দৃঢ় ও আপসহীন। তিনি প্রমাণ করেছেন, নারী নেতৃত্ব মানে অনুকরণ নয়, নিজস্ব পরিচয়ে দাঁড়ানোর সাহস। বিশ্ব ইতিহাসে নারী নেতৃত্বের উজ্জ্বল নামের অভাব নেই, ইন্দিরা গান্ধী, মার্গারেট থ্যাচার, অ্যাঞ্জেলা মের্কেল, বেনজির ভুট্টো কিংবা মানবতা ও শান্তির প্রতীক বার্থা ভন সুটনার, জেন অ্যাডামস, আং সান সু চি, শিরিন এবাদি ও মালালা ইউসুফজাই, মেরি কুরি ও মাদার তেরেসার অবদানও অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের বাস্তবতায় বেগম খালেদা জিয়া এসব নামের প্রতিচ্ছবি নন-তিনি নিজেই একটি স্বতন্ত্র মানদণ্ড, বাঙালি নারীর আত্মপরিচয়ের প্রতীক। বিশ্বের সকল নারীর সাফল্যের পথপ্রদর্শক।
তাঁর চলনবলন, সততা, ধৈর্য, ত্যাগ ও নিরলস পরিশ্রম প্রতিটি নারীর জন্য এক নীরব শিক্ষা। এই গুণগুলো ধারণ করলেই যে কোনো নারী নিজের জীবনকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে পারেন, এই বিশ্বাস তিনি সমাজে রোপণ করেছেন। তাই বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক অধ্যায় নন, তিনি নারীর আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা ও সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি। আজকাল পৃথিবীতে যখন নারীর অগ্রযাত্রা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন বেগম খালেদা জিয়ার জীবন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ত্যাগ, ধৈর্য্য, বিশ্বাস, জ্ঞান ও মানবিকতার সমন্বয়ই প্রকৃত নেতৃত্বের ভিত্তি। এই অর্থে তিনি শুধু অতীত বা বর্তমানের নন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও এক দীপ্ত। নারীর সফলতার ফুটান্ত এক হাসনাহেনা ফুল।

লেখক: রানা বর্তমান
নাট্য নির্মাতা, সাহ্যিতিক ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *