1. ccadminrafi@gmail.com : Writer Admin : Writer Admin
  2. 123junayedahmed@gmail.com : জুনায়েদ আহমেদ, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর : জুনায়েদ আহমেদ, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর
  3. swadesh.tv24@gmail.com : Newsdesk ,স্বদেশ নিউজ২৪.কম : Newsdesk ,স্বদেশ নিউজ২৪.কম
  4. swadeshnews24@gmail.com : নিউজ ডেস্ক, স্বদেশ নিউজ২৪.কম, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর: : নিউজ ডেস্ক, স্বদেশ নিউজ২৪.কম, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর:
  5. hamim_ovi@gmail.com : Rj Rafi, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান : Rj Rafi, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান
  6. rifatkabir582@gmail.com : রিফাত কবির, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান : রিফাত কবির, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান
  7. skhshadi@gmail.com : শেখ সাদি, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান: : শেখ সাদি, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান:
  8. srahmanbd@gmail.com : এডমিন, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান : এডমিন, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান
৩৪২ একর বেদখল, নতুন ভবন নির্মাণে জমি সঙ্কটে ঢাবি - Swadeshnews24.com
শিরোনাম
নতুন গবেষণায় মিলল হৃদ্‌রোগ ঠেকানোর মহৌষধ জিলহজ মাসের ফজিলত ও কোরবানির বিধিবিধান নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস, কাল থেকে কার্যকর আলোচনায় সমাধান চায় গ্রামীণফোন ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আবারও দেখা যেতে পারে রোনালদো–মরিনিও জুটি পাতালরেলের কাজ শুরু আগামী বছর আল্লাহ কি হাসেন জিলহজের প্রথম ১০ দিনে করণীয় ব্যবসায়ীরাই বাড়াচ্ছেন পেঁয়াজের দাম রাশিয়ার হাতে ‘বন্দি’ ইউক্রেনের ৬ হাজার সেনা ‘গেম চেঞ্জার’ সেই দ্বীপ থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা রাশিয়ার করোনায় ৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজারের উপরে কুড়িগ্রামে আবারও পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ দৈহিক গড়নের কারণেই পিছিয়ে বাংলাদেশ!

৩৪২ একর বেদখল, নতুন ভবন নির্মাণে জমি সঙ্কটে ঢাবি

  • Update Time : রবিবার, ১১ মে, ২০১৪
  • ২২৮ Time View

dhaka university_279_36167বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ করায় নতুন ভবন নির্মাণে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা যাবে। দিন দিন অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ করায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন মুরগীর খামারে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিনোদন থেকে ছিটকে পড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞমহল। ভবন নির্মাণে জায়গার এই সংকুলানের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৪২ একর জমি সরকারি ও বিভিন্ন বেসরকারি মালিকানায় দখল হওয়াকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় এর জমির পরিমাণ ছিল ৬০০ একর। কাগজে-কলমে সম্পত্তির পরিমাণ ৬০০ একর উল্লেখ থাকলেও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে চলে যাওয়ায় তা ২৫৮ একরে নেমে এসেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন পীরের নামে মাজার, দরিদ্র মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে যত্রতত্র দোকানপাট ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রভাবশালীদের অবৈধ ব্যবসার জন্য প্রায় সাড়ে ৩০০ একর জমি হাতিয়ে নিয়েছে দখলবাজচক্র।

যার ফলে ক্যাম্পাসে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি অল্প জায়গায় অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ করায় পুরো ক্যাম্পাস এখন বস্তির মত হয়ে পড়েছে। ক্যাম্পাসের কোণায় কোণায় ইট-পাথরের বিল্ডিংয়ের ঝাঁঝ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে ক্যাম্পাসে নতুন নতুন ভবন তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু জায়গার সংকুলানের কারণে এই ভবনগুলো নির্মাণে তেমন পরিকল্পনা করা হচ্ছে না। সম্প্রতি ক্যাম্পাসে ৬-৭টি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য সামাজিক বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ৬ তলা বিশিষ্ট এই ভবন নির্মাণ করায় লাইব্রেরির সামনের অংশে সব সময় শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া পাশেই কেন্দ্রীয় মসজিদ। শিক্ষার্থীদের আনাগোনার শব্দের প্রভাব মসজিদেও পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হল, কবি জসীম উদ্দিন হল এবং বঙ্গবন্ধু হল রোডে নির্মাণ করা হয়েছে বিজয় একাত্তর নামের নতুন হল। ১২তলা বিশিষ্ট এই হল নির্মাণ করায় শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট কিছুটা লাঘব হবে। কিন্তু সমস্যাও হবে। কারণ, কাছাকাছি ৪টি হল এক সাথে হয়ে গেছে। ৪টি হলের প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থীর খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য মাত্র একটি হল। হলটি বিজয় একাত্তরের সামনে পড়েছে। ফলে সব সময় এখানে ছাত্রদের আনাগোনা থাকেই।

এছাড়া বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে প্রতিনিয়ত নতুন ভবন নির্মাণ করায় এখানে ভবিষ্যতে আর কোন ভবন নির্মাণের জায়গা নেই। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এরকম ভবন নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেটুকু জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে তাও থাকবে না। এর কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০০ একর জমির ৩৪২ একর বেদখলে যাওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছে।

এছাড়া বিশেষজ্ঞরা আরো উল্লেখ করেন, জিয়া হল ও সূর্যসেন হলের মাঝখানে বড় একটি হল নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে আর উন্মুক্ত সবুজ প্রাঙ্গণ নেই। সেই সঙ্গে আরো দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ এর আশপাশের পরিবেশ দূষণ করবে। রোকেয়া হল ও শামসুন্নাহার হলের মাঝখানে একটি হল হচ্ছে। ওখানেও উন্মুক্ত সবুজ আর থাকছে না। ঈসা খাঁ রোডের ফাঁকা জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে। এ ভবন পুরোপুরি অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হচ্ছে। ৩২ নাম্বার ভবনের পাশে এ বহুতল ভবন নির্মাণ করা যেত বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। এর মধ্যে ড. জে সি দেবের দান করা তার ধানমন্ডির বাড়িটি আদালতের রায় থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করতে পারেনি।

এরপরও এ ব্যাপারে উদাসীন সরকার। এ সুযোগে গ্রিনরোড, ধানমন্ডি, কাঁটাবন ও ফার্মগেটসহ রাজধানীর অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাবর সম্পত্তিতে আঘাত হেনেছে দখলদারচক্র। থেমে নেই সরকারি প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্যও। পুলিশ ফাঁড়ি, পরমাণু শক্তি কমিশন, ব্রিটিশ কাউন্সিলসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অধীনেও রয়েছে প্রায় অর্ধশত একর জমি।

অথচ ভূমি স্বল্পতার কারণে ‘ক্যাম্পাস পরিকল্পনায়’ হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। এ অবস্থায় যথেচ্ছা ভবন তৈরি করে ভারাক্রান্ত করে তোলা হচ্ছে পুরো ক্যাম্পাসকে। এতে শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জায়গা যেমন সংকুচিত হচ্ছে, তেমনি নান্দনিকতার বিপরীতে ঘিঞ্জিপূর্ণ হয়ে উঠছে পরিবেশ। আর ভবনগুলোও হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ।

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ রাশিদুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ প্রত্যেকের জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্মুক্ত ও মনোরম পরিবেশের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরিকল্পিতভাবে ভবন গড়ে উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২৫৮ একর জমি আছে। জমির যথার্থ ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। নিয়মানুযায়ী ৪৫ শতাংশ জমিতে ভবন নির্মাণ করে বাকিটা উন্মুক্ত রাখতে হয়।

পরিবেশবিদরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার জন্য যেমন খোলা পরিবেশ দরকার, তার অনেকটাই ঢাবিতে নেই। একের পর এক ভবন নির্মাণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে ঢাকার যান্ত্রিকতার সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার সময় ১২টি বিভাগে মাত্র ৮৭৭ জন ছাত্র এবং ৬০ জন শিক্ষক নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। সে সময় জমির পরিমাণ ছিল ৬০০ একর। ৯৩ বছর পর এখন ১৩টি অনুষদের ৭৩টি বিভাগ ও ১১টি ইন্সটিটিউটের ১৮ শতাধিক শিক্ষক ও ৩৫ হাজার ছাত্রছাত্রী রয়েছে। এর বাইরেও চার হাজার কর্মচারী, দুই হাজারের অধিক পিএইচডি-এমফিল ডিগ্রিধারী ছাত্র-শিক্ষক তো রয়েছেনই। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার পরিবারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন মাত্র ২০০ একর জমি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তারা জানান, গত ৯৩ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের চেয়ে প্রায় ৪০ গুণ বেড়েছে। শিক্ষকের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২৫ গুণ। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির আয়তন ক্রমেই কমছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ ঘিঞ্জি হয়ে পড়বে। হারাবে অবকাঠামোগত নান্দনিকতা।

এস্টেট অফিস জানায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন জমির পরিমাণ ২৫৮ দশমিক ২৮ একর। এর মধ্যে পরমাণু শক্তি কমিশন, জাতীয় জাদুঘর ও একাধিক পুলিশ ফাঁড়ির অধীনে বেশ কিছু জমি রয়েছে। এর বাইরেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ কাউন্সিলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের দশ বছরের চুক্তি হয়েছে। যেখান থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জায়গা নেই অথচ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে জমি লিজ দেয়া কতটা যৌক্তিক- এমন প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি এস্টেট অফিসে।

এস্টেট অফিসার সুপ্রিয়া দাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জমি সঙ্কটে রয়েছে এটি অবশ্যই স্বীকার করতে হবে। তারপরও পুলিশ ফাঁড়ির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। পরমাণু শক্তি কমিশন দীর্ঘদিন আগেই স্থানটি ত্যাগ করার ঘোষণা দিলেও সেটি বাস্তবায়ন করেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা দফতর সূত্রে জানা গেছে, জায়গা সঙ্কটের কারণে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন জায়গা নেই। এজন্য পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সম্প্রসারণের চিন্তা চলছে। যার মধ্যে প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের একাংশ ও ডাকসু প্রাধান্য পাবে।

অন্যদিকে আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য শাহনেওয়াজ হলকে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা চলছে। দীর্ঘদিন আগেই এনার্জি ইন্সটিটিউটকে শক্তিশালী রূপ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কিন্তু শুধু জায়গা সঙ্কটের কারণে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও জায়গা সঙ্কটের কারণে অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়নেই হাত দিতে পারছে না এই দপ্তর।

পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মকর্তা জীবন কুমার মিশ্র বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ৬০০ একরের মধ্যে বর্তমানে ২৫০ একরের কিছু বেশি জমি তাদের দখলে রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েক একর ইতোমধ্যে হাতছাড়াও হয়েছে। এতে নতুন একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্টাফদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভবনে ভবনে ছেয়ে গেছে পুরো ক্যাম্পাস। পরিবেশবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে যান্ত্রিকতাই গুরুত্ব পাচ্ছে সব স্থানে। তীব্র জায়গা সঙ্কটের ফলে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশেই তোলা হয়েছে ছয় তলাবিশিষ্ট সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ। ভিসি ও কোষাধ্যক্ষ ভবনের মাঝে নির্মাণ করা হয়েছে তুলনামূলক তরুণ শিক্ষকদের আবাসস্থল ‘মুনীর চৌধুরী ভবন’। শিববাড়ী এলাকার একমাত্র ফাঁকা স্থানে নির্মিত হয়েছে কর্মচারীদের আবাসস্থল ‘বঙ্গবন্ধু টাওয়ার’।

সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুপাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য যে পরিমাণ জমি দরকার, তার সবটুকুতেই একের পর এক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। জমি সঙ্কটের কারণে অসংখ্য গাছ কেটে ক্রমেই ক্যাম্পাসের পরিবেশকে ঘিঞ্জিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর করে তোলা হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে ক্যাম্পাসের মূল সৌন্দর্য। তৈরি হচ্ছে অস্বস্তিকর পরিবেশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি বেহাতের ইতিহাস অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯২১ সালে অভিজাত এলাকা রমনা অঞ্চলে নবাব পরিবারের দেয়া ৬০০ একর জমি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। কিন্তু ১৯৩৬ সালে তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক স্যার এএফ রহমান এবং সেক্রেটারি অব ইন্ডিয়া ইন কাউন্সিল এমএ স্টুয়ার্টের মধ্যে একটি দলিল স্বাক্ষরিত হয়। দলিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫৭ একর ৭০ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। মূলত ওই চুক্তির মাধ্যমেই একযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ৩০০ একর জমি বেহাত হয়।

এরপর বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি বেহাত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভবনের একটি বিরাট অংশ রিক্যুইজিশন করে সামরিক হাসপাতাল (ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) গড়ে তোলে। উপমহাদেশ থেকে ইংরেজদের বিদায়ের পর তৎকালীন পূর্ববাংলা সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন দখল করে সেখানে হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠা করে।

সূত্র মতে,পরবর্তী সময়ে নানা সঙ্কটকে পুঁজি করে একের পর এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি দখল করা হয়। বুয়েট, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, সেক্রেটারিয়েটসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের জমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে। মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডের বাংলোগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের আবাসিক ভবন ছিল।

নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ষাটের দশক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে সরকারের কাছ থেকে ক্রমাগত জমি দাবি করতে থাকলে ১৯৫০ সালে ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য বিচারপতি ফজলে আকবর কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, ২৫৭ একর জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অপ্রতুল। কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো ৬৩ একর জমি দেয়ার সুপারিশ করে। কিন্তু তাতো দেয়া হয়ই নাই, বরং পাকিস্তান আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো জমি অধিগ্রহণ করে নেয় সরকার।

১৯৭৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শাহবাগে তাদের নিজস্ব ভূমি থেকে জাতীয় জাদুঘরকে ৩ একর জমি প্রদান করে এই শর্তে যে, জাদুঘর কর্তৃপক্ষ তাদের ছেড়ে আসা এলাকার ৪ একর জমিসহ ভবনাদি বিশ্ববিদ্যালয়কে হস্তান্তর করবে। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টা শেষে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বা সরকার খুব সামান্য পরিমাণ জমিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে।

সর্বশেষ ১৯৯২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে আয়োজিত এক সমাবেশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকার পরমাণু শক্তি কমিশনের জমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সাভারে পরমাণু শক্তি কমিশনের জন্য আলাদা জায়গা বরাদ্দ দেয়। শেষ পর্যন্ত কিছু বিজ্ঞানীর বিরোধিতার কারণে সেটি কার্যকর করা হয়নি।

এর বাইরেও ফার্মগেটের কাছে গ্রিনরোডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ দশমিক ৯৯ একর বা ১৮ বিঘা জমি থাকলেও তার ১২ বিঘা জমিই দখলে নিয়েছে বস্তিবাসী। কাঁটাবন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে রাজধানীর অন্যতম বস্তি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রিনরোডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ বিঘা জমি থাকলেও তার ১২ বিঘা জমিই এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা দখল করে বস্তি হিসেবে ভাড়া দিচ্ছে। কাগজে-কলমে ১৫১ জন কর্মচারী পরিবার থাকার কথা উল্লেখ থাকলেও সে জায়গাতে বসবাস করছে কয়েক শ’ পরিবার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী নন; তবুও সেখানে ভাড়া থাকেন। তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, তিনি এই জমির ব্যাপারে কিছু জানেন না। তবে বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। জায়গাটিতে পরিকল্পনা নিয়ে ভবন নির্মাণ না করা হলে স্থায়ীভাবে এটি হাতছাড়া হয়ে যাবে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান।

দখলদারদের হাতে ড. জি সি দেবের বাড়ি

৪৩ বছর পার হয়ে গেলেও বিখ্যাত দার্শনিক ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেবের (জিসি দেব) উইল করা জমি (ধানমন্ডি ৪/এ) দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সর্বশেষ বাড়িটি উদ্ধারের চেষ্টা ছেড়েই দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০১২ সাল থেকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে বাড়ির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে নোটিশ দিলেও তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জি সি দেবকে হত্যার পর ব্যাপক অর্থসঙ্কটে পড়ে ধানমন্ডির ওই জমিটি কিশোরগঞ্জের আনোয়ারুল হককে বাড়ির একটি অংশ ভাড়া দেন দত্তক মেয়ে রোকেয়া। আনোয়ারুল হকের মৃত্যুর পর সেখানেই খানকা বানায় তার অনুসারীরা। এরপর ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতিকদের আশ্রয়ে অনুসারীরা রোকেয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে বাড়িটি দখলে নেয়। ১৯৭৭ সালে আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে একটি রায় দিলেও তখন ধানমন্ডির বাড়িটি দখল নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাড়িটি বুঝে নেয়ার চেষ্টা করলেও তাতে ব্যর্থ হয়।

সরেজমিনে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জি সি দেবের বাড়ির ভেতরে একটি প্রতীকী কবর তৈরি করে মাজার নির্মাণ করেছে দখলদাররা। এ মাজারকে পুঁজি করেই তারা বাড়িটি দখল করে রেখেছে। মন্ত্রণালয়ের নোটিশ এবং আদালতে তাদের রিট আবেদন খারিজ হওয়ার পর কিশোরগঞ্জের গ্রামের বাড়ি থেকে আনোয়ারুল হকের লাশ এনে জি সি দেবের বাড়িতে কবরস্থ করার পরিকল্পনা করছে দখলকারীরা। এর মাধ্যমে তারা উচ্ছেদ ঠেকানোর চেষ্টা করছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে কবর স্থানান্তরের জন্য এবং লাশের অবশিষ্ট অংশ উঠিয়ে আনার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে।

এস্টেট অফিসার সুপ্রিয়া দাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাড়িটি উদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা চালিয়েও সুবিধা করতে না পরায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ওপর ছেড়ে দেয়। কিন্তু তারপরও নানাবিধ জটিলতায় সেটি আটকে আছে। তিনি বলেন, এর আগে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিবের দেয়া একটি নোটিসে ১৫ দিনের মধ্যে প্লটটি ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। বিপরীতে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা একটি রিট আবেদন করলেও সেটি খারিজ করে দেয়া হয়েছে। বাড়িটি উদ্ধারে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শক্তিশালী অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

জমি দখল করে দুই পুলিশ ফাঁড়ি!

বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের পাশে বাবুপুরার বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে গড়ে উঠেছে বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ জায়গাটি দখল করে পুলিশের জন্য ২০ তলা ভবন তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হলেও বর্তমানে তা স্থগিত আছে। তবে পুলিশ কর্তৃপক্ষ এটি দখল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও নীলক্ষেত মোড়ে স্যার এএফ রহমান হলের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯.৭ একর জায়গা দখল করে আছে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রস্থল থেকে ফাঁড়িটি স্থানান্তর করার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত সেটি করা হয়নি। দখলকৃত ওই জমি ফেরত নেয়ার জন্য বেশ কয়েকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আজো সেটি থেমে আছে। দখলকৃত জমি ফেরত নেয়ার ব্যাপারে তৎকালীন ভিসি এমাজউদ্দীন আহমদ ও এ কে আজাদ চৌধুরী দু’বার সরকারকে চিঠি দিলে তখন সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়।

কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো আশ্বাসই বাস্তবায়ন হয়নি। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই শাহবাগ ও নিউমার্কেট দুটি থানা থাকার পরও দুটি পুলিশ ফাঁড়ি কেন প্রয়োজন- সেটি বোধগম্য নয়। যেখানে জায়াগা সঙ্কটের কারণে শিক্ষার্থীরা আবাসন সমস্যা পাচ্ছে না সেখানে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান থাকা উচিত নয়। অবিলম্বে ফাঁড়ি দুটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক ভবন নির্মাণের ফলে সংকুচিত হয়েছে শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জায়গা। অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিধি আস্তে আস্তে ছোট হয়ে আসছে। তৈরি হচ্ছে অস্বস্তিকর পরিবেশ।

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন বলেন, প্রতিষ্ঠাকালীন ৬০০ একর জমির মধ্যে ৩০০ একরের বেশি কয়েক বছর পরেই বেহাত হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন বেশ কিছু জমি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অধীনে রয়েছে। যার মধ্যে পরমাণু শক্তি কমিশন অন্যতম। শক্তি কমিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে সাভারসহ একাধিক স্থানে জায়গা দেয়া হলেও তারা স্থানান্তরিত হচ্ছে না। জায়গাটি ফিরে পেতে ইতোপূর্বে বেশ জোর তাগিদ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সফল হয়নি। তবে ব্রিটিশ কাউন্সিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-মর্যাদাকে বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক লিজের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘিঞ্জিপূর্ণ পরিবেশের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রতিবার নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর কোনো ধরনের পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই ভবন নির্মাণ করে থাকেন। এতে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে, ক্যাম্পাসে ফাঁকা জায়গা বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই। এজন্য বর্তমান প্রশাসন নতুন ভবন নির্মাণের কথা চিন্তা না করে পুরনো ভবনগুলোকে সম্প্রসারণের কাজ করছে। এর বাইরেও ‘মাস্টার প্ল্যান’ অনুযায়ী পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে মনোরম পরিবেশ দেয়ার চেষ্টা চলছে।

শীর্ষ নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category

ফটো গ্যালারী

© All rights reserved © 2020 SwadeshNews24
Site Customized By NewsTech.Com