সুস্থ থাকতে চাইলে ভুলেও খাবেন না এই খাবারগুলো!

processed_foodইদানিং আপনি কী খাচ্ছেন ভেবে দেখুন তো। একটু মনোযোগ দিলেই বুঝবেন প্রচুর প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া হচ্ছে যা মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। বিশেষ করে এই কয়েকটি খাবার খাওয়া এখনই বাদ দেওয়া উচিৎ আপনার। দেখে নিন, এগুলো কি আপনিও খাচ্ছেন অহরহ?

প্রক্রিয়াজাত খাবার কখনোই টাটকা, প্রাকৃতিক খাবারের সমকক্ষ হতে পারেনা। এটা জেনেও আমরা খেয়ে চলেছি প্যাকেটজাতা, প্রক্রিয়াজাত খাবার। এর চাইতে অভ্যাস করুন একেবারে তাজা শাক-সবজি এবং ফলমূল খাওয়ার। এতে স্বাস্থ্যের হবে অকল্পনীয় উন্নতি।

১) ইন্সট্যান্ট নুডলস

বিশেষ করে ছাত্র এবং অবিবাহিতরা ইন্সট্যান্ট নুডলস খেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু এই অভ্যাসটি যতো দ্রুত সম্ভব বাদ দেওয়া যায় তত ভালো। কারণ এতে থাকে অতিরিক্ত পরিমাণে সোডিয়াম যা রক্তচাপ বাড়াতে সক্ষম এমনকি এ থেকে স্ট্রোকেরও ঝুঁকি বাড়ে। শুধু তাই নয়, এ থেকে তেমন কোনো পুষ্টিও পাওয়া যায় না। এতে থাকতে পারে অতিরিক্ত ফ্যাট যা আপনার জন্য মোটেও ভালো নয়। ছোট এক প্যাকেট নুডলস যে কতোটা অস্যাস্থ্যকর হতে পারে তা কী আপনি কখনো ভেবেছিলেন?

২) ড্রাই ফ্রুট

এক মুঠো শুকনো কিসমিস অথবা একটা ম্যাঙ্গো বার খুব মুখরোচক মনে হতে পারে। কিন্তু এগুলোতে থাকে অনেক বেশি চিনি ফলে এর ক্যালোরি কাউন্ট অনেক বেশি। এতে ওজন বেড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। প্রয়োজনের বেশি খেলে শরীরে চর্বি জমবে সহজেই।

৩) ফ্লেভারড বাদাম

বাদাম বেশ স্বাস্থ্যকর হলেও চিনিযুক্ত, ফ্লেভারড বাদাম স্বাস্থ্যে রজন্য মোটেও ভালো নয়। এগুলোতে থাকা অতিরিক্ত লবণ ও চিনি স্বাস্থ্যের ওপর ঝুঁকি তৈরি করে। এগুলো বাড়াতে পারে ওজন, বাড়াতে পারে ডায়াবেটিস এবং রক্তচাপ। আর দাঁতের যে ক্ষতি করে তা বলাই বাহুল্য।

৪) ফ্রুট ক্যান্ডি

এগুলো তো আপনার দাঁতের ক্ষতি করেই সাথে সাথে কোমরের চারপাশে জমায় মেদ। এগুলোতে বেশীরভাগ সময়ে ফ্রুট বলতে কিছু থাকেই না। থাকে কেবল হাই ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ এবং চিনি। ফলে ওজন বাড়ে খুব সহজে।

৫) মার্জারিন

একটা সময়ে মাখনের চাইতে স্বাস্থ্যকর মনে করা হতো মার্জারিনকে। কিন্তু এতে আসলে অনেকটা ট্রান্স ফ্যাট থাকে। এটা অন্য যে কোনো ধরণের ফ্যাটের চাইতে ক্ষতিকর। এটা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়। মার্জারিন খাওয়া কমালে কমে যেতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকিও।

৬) কেচাপ এবং সালাদ ড্রেসিং

যে কোনো ফাস্টফুডের সাথে কেচাপ খাওয়া তো নিশ্চিত। একটুখানি কেচাপ উপভোগ করলে কিছু হয় না বটে। কিন্তু আমরা যেভাবে কনুই ডুবিয়ে, সবকিছুতে মাখিয়ে লাল করে কেচাপ খাই তা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। আর ঘন ঘন কেচাপ খাওয়া তো মোটেও ঠিক নয়। টমেটো কেচাপে এতো বেশি চিনি এবং লবণ থাকে যে এর কোনো পুষ্টিগুণ আর অবশিষ্ট থাকে না। সালাদ ড্রেসিং এর ব্যাপারেও একই কথা খাটে। সালাদে এগুলো দেবার সাথে সাথে ভীষণ স্বাস্থ্যকর এক মুঠো সবজি রূপান্তরিত হয় অস্বাস্থ্যকর খাবারে।

৭) প্রক্রিয়াজাত মাংস

যেমন সসেজ, চিকেন নাগেটস ইত্যাদি। এগুলোতে থাকতে পারে প্রিজারভেটিভ যা কোলোন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়াও এগুলোতে অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং ফ্যাট থাকে। এগুলোতে থাকা প্রোটিনও বেশি সময় ধরে ফ্রোজেন থাকার কারণে আর আমাদের শরীরের তেমন উপকারে আসে না।

৮) কেনা ডোনাট, মাফিন, কুকি

এতে একই সাথে তিনটি অস্বাস্থ্যকর উপাদান থাকে, ট্রান্স ফ্যাট, চিনি এবং রিফাইন্ড ময়দা। এগুলো স্বাস্থ্য খারাপ করে দেবার জন্য যথেষ্ট।

৯) পটেটো চিপস

একে তো এতে থাকে আলু, তার ওপরে প্রচুর ফ্যাট এবং লবণের কারণে এগুলো জাঙ্ক ফুড ছাড়া আর কিছুই না। এর পাশাপাশি এতে থাকতে পারে অ্যাক্রিলামাইড যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

১০) কোকা কোলা বা পেপসির মতো পানীয়

ওজন বাড়াতে চান দ্রুত? নিয়মিত কোলা পান করুন। এ কারণে ওজন কমাতে চাইলে তো এটা পান করা মোটেই ভালো নয়। নিয়মিত কোলা পান অনেকগুণে বাড়ায় ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি।

তথ্যসুত্র এবং ছবি: 10 Processed Foods to Avoid at All Costs, PopSugar

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *