2015_12_06_15_48_41_xV4mm8O4aa4R0L85exGNIZlrZBtfd8_originalসম্পাদনায়- সাইমুর রহমান, স্বদেশ নিউজ২৪.কম:কিছু পরিবর্তন ও কর্তন সাপেক্ষে আবারো সেন্সর বোর্ডের কাছে জমা দেয়া হয়েছে চিত্রনায়ক মান্না অভিনীত শেষ ছবি ‘লীলা মন্থন’। রোববার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ ছবিটির সেন্সর শো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দশ বছরের প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

২০০৫ সালে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘লীলা মন্থন’ নির্মাণ কাজ। কিন্তু শুটিং শেষ হওয়ার আগেই ২০০৮ সালে মারা যান ছবির প্রধান চরিত্র চিত্রনায়ক মান্না। তখনও ছবিটির ২০ ভাগ কাজ বাকি। এমন পরিস্থিতিতে জাহিদ হোসেন ও খোরশেদ আলম খসরুর যৌথ পরিচালনায় মান্নার ডামি শিল্পী দিয়ে শেষ করা হয় ‘লীলা মন্থন’ চলচ্চিত্রের নির্মাণ কাজ। এর পরপর ২০১১ সালে সেন্সর বোর্ডের কাছে ছাড়পত্রের জন্য জমা দেয়া হয় ছবিটি। কিন্তু সেখানেও নতুন সমস্যার মুখোমুখি হন নির্মাতা।

মূলত মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র হিসেবে ‘লীলা মন্থন’ নাম নিয়েই আপত্তি তোলে রিভিউ কমিটি। পাশাপাশি চলচ্চিত্রটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার অভিযোগ আনা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলচ্চিত্রটির একটি অংশে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে স্থানীয় যৌনপল্লীর নিয়মিত খদ্দের হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যা নিয়েই আপত্তি তুলে স্বয়ং সেন্সর বোর্ডের কয়েকজন সদস্য। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দ্বারস্থ হয় ছবিটির নির্মাতা। কিন্তু সেখানে র্দীঘসূত্রিতার কবলে পড়েন। শেষ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের শীর্ষস্থানীয় দুই জন সদস্য ছবিটি দেখে প্রসংশা করেন। তবে যৌনপল্লীর দৃশ্য ও কয়েকটি সংলাপ নিয়ে আপত্তি তুলেন। এরপর আবারো ছবিটি সেন্সর বোর্ডে জমা দিলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অনাপত্তির বিষয়টি লিখিত চান। কিন্তু সংগঠনটির চেয়ারম্যান অনাপত্তিপত্র দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ছবির দুই নির্মাতা আবারও সেন্সরবোর্ডের কাছে আবেদন করেন। এমন পরিস্থিতিতে যৌনপল্লীর দৃশ্য ও কয়েকটি সংলাপ বাদ দিয়ে আবারো ছবিটি সেন্সরবোর্ডে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘লীলা মন্থন’ চলচ্চিত্রের কয়েকটি দৃশ্য ও সংলাপ কর্তন করে গেল সপ্তাহে আবারো সেন্সর বোর্ডর কাছে জমা দেয়া হয়েছে। রোববার বিকেলে ছবিটির সেন্সর শো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে চলচ্চিত্রটির নির্মাতা খোরশেদ আলম খসরুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দৃশ্য নয়, কয়েকটি সংলাপ কর্তন করে আবারো সেন্সর বোর্ডে ছবিটি জমা দিয়েছি। আজ সেন্সর শো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে চলচ্চিত্রটিতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে স্থানীয় যৌনপল্লীর নিয়মিত খদ্দের হিসেবে উপস্থাপন করার দৃশ্যটি থাকছে কিনা জানতে চাইলে এই নির্মাতা বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি  বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সব শ্রেণী পেশার মানুষের অংশ গ্রহণ ছিল। যা আমাদের ছবির মূল বিষয়বস্তু। ছবির গল্পটাই গড়ে উঠেছে যৌনপল্লীকে ঘিরে। যৌনকর্মীরা কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, সেটাই ছবির গল্প। তাই কোন অংশ বাদ দেয়া সম্ভব নয়। তবে সংলাপে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।’

‘লীলা মন্থন’ ছবিতে মান্না ছাড়াও অভিনয় করেছেন মৌসুমী, শাহনূর, পপি, মুক্তি, দিঘি, বাপ্পারাজ, আলীরাজ, আনোয়ারা, শহিদুল আলম সাচ্চু, মিশা সওদাগরসহ আরো অনেকে। ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *