btclলং টার্ম ইভোলুশন এলটিই বা ফোরজি প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারবিহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদানের সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (BTCL)। প্রতিষ্ঠানটি দেশের সব মেট্রোপলিটন শহর, জেলা শহর, উপজেলা ও গ্রোথ সেন্টারে পর্যায়ক্রমে তারবিহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেবে। এ জন্য ইতিমধ্যে বিটিসিএলকে ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস (BWA) লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী প্রযোজ্য ফি ও চার্জ প্রদানসাপেক্ষে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) এ লাইসেন্স দেবে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে বিডব্লিউএ লাইসেন্সের আওতায় বাংলালায়ন, কিউবি এবং ওলো র্ব্যান্ড নামের ৩টি প্রতিষ্ঠান ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। ২০০৮ সালে নিলামের মাধ্যমে লাইসেন্স পায় বাংলালায়ন ও কিউবি আর ২০১৩ সালে এ লাইসেন্সের আওতায় সেবা চালু করে ওলো। এই তালিকায় এবার নতুন যুক্ত হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল। এদিকে ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস (BWA) লাইসেন্সধারী তিন প্রতিষ্ঠানকে এরই মধ্যে এলটিইর অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে বিডব্লিউএ লাইসেন্সের আওতায় ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তির ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে।

গত বছর বিডব্লিউএ লাইসেন্সিং নীতিমালায় সংশোধনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এলটিই প্রযুক্তি চালুর অনুমোদন দেয়া হয়। এলটিইর জন্য তাদের ২৬০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে তরঙ্গ বরাদ্দ দিয়েছে কমিশন। তিনটি প্রতিষ্ঠানই এলটিই নেটওয়ার্ক স্থাপনে কাজ করছে বলে জানা গেছে। গাইডলাইনের নিয়ম অনুযায়ী, ফি জমাদানের নির্দেশদানের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লাইসেন্স ফির ৫০ শতাংশ প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই নিলামের দর অনুযায়ী লাইসেন্স নিতে বলা হলেও বিটিসিএল আর্থিক কারণ দেখিয়ে ফি জমাদানের সময় বাড়ানোর আবেদন করে।

পর্যায়ক্রমে এ অর্থ পরিশোধের সুযোগ চায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে লাইসেন্স নেয়া দুটি অপারেটরই নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স নিয়েছে। ফলে বিটিসিএলের জন্য এটি শিথিল করার সুযোগ নেই বলে জানায় কমিশন। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিডব্লিউএ লাইসেন্স ও তরঙ্গ বরাদ্দের জন্য বিটিআরসির কাছে আবেদন করে। এজন্য আবেদন ফি হিসেবে ৫০ হাজার টাকা জমা দেয়া হয়। লং টার্ম ইভোলুশন (LTE) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারবিহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিতে আগ্রহী বিটিসিএল। এজন্য ২ হাজার ৩০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ৩৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দের আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তির পাশাপাশি বিডব্লিউএ লাইসেন্সের আওতায় এলটিই প্রযুক্তি ব্যবহারেরও অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিটিআরসি বলছে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিটিসিএলকে বিশেষ সুবিধা দেয়া হলে তা এ খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো নীতিমালার শর্ত মেনেই লাইসেন্স ফি প্রদান করেছে। বিটিসিএলকেও এসব ফি ও চার্জ প্রদান সাপেক্ষে বিডব্লিউএ লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, দেশের সব মেট্রোপলিটন শহর, জেলা শহর, উপজেলা ও গ্রোথ সেন্টারে পর্যায়ক্রমে তারবিহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক স্থাপন (4G, LTE) শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিটিসিএল। এজন্য কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান ইডিসিএফের সঙ্গে প্রাথমিক ঋণচুক্তিও সই হয়েছে। গত বছরের মে মাস থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত। সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে স্থানীয় উত্স থেকে সংগ্রহ করা হবে ১৮২ কোটি টাকা।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স ফি বাবদ ২৫০ কোটি প্রদান করতে হলে প্রকল্পের ব্যয় আরো বাড়বে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত গতির ইন্টারনেট ওয়াইম্যাক্স ব্যাপক ভিত্তিতে চালু হলে ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন, এফএম রেডিও আর কেবল টেলিভিশন দেখার সুবিধা পাওয়া যাবে। তারবিহীন ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিডিও চিত্র থেকে শুরু করে নানা প্রকার তথ্য দ্রুত আদান-প্রদান করা সম্ভব হবে। নতুন এই প্রযুক্তিতে ইন্টারনেটের সর্বনিম্ন গতি থাকবে প্রতি সেকেন্ডে ১২৮ কিলোবাইট। বিশ্বের ১১০টি দেশে এই প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে গ্রাহকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *