কৃষি উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা, ‘মাটি ও মানুষ’ এবং ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-এর পরিকল্পক, পরিচালক, উপস্থাপক এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় আজ সিরাজগঞ্জের চরমালশাপাড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে ‘কৃষকের বিশ্বকাপ ফুটবল’। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল আসরের দুটি জায়ান্ট দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক কৃষকেরা দু’দলের জার্সি পরে ফুটবল খেলবেন আজ। ৭টি ক্যামেরা দিয়ে পুরো খেলাটি ধারণ করা হবে। বিশ্বকাপ ফুটবল-২০১৪ জমে ওঠার সময় চ্যানেল আইতে প্রচার করা হবে এ কৃষকের বিশ্বকাপ ফুটবল। এ উপলক্ষে পুরো সিরাজগঞ্জের বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। চরমালশাপাড়া গ্রামে বইছে আনন্দের বন্যা। তৈরি হচ্ছে স্টেডিয়াম, গ্যালারি, লাগানো হচ্ছে ফ্লাড লাইট। গান-বাজনার আসর বসেছে। খেলা শেষে পোড়ানো হবে আতশবাজি। থাকছে নিউজ বক্স। ধারাভাষ্যকার হিসেবে উপস্থিত থাকছেন বিশিষ্ট ধারা ভাষ্যকার চৌধুরী জাফর উল্লাহ শরাফত। চ্যানেল আই কৃষকের বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে তৈরি করা হয়েছে থিম সং। হাসনাত করিম পিন্টুর লেখা আজম বাবু ও আরিফের সুর এবং ফুয়াদ নাসের বাবুর সংগীত পরিচালনায় তৈরি এ থিম সং-এ কণ্ঠ দিয়েছেন আরিফ ও স্বরণ। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ৬ জন খেলোয়াড়ের মুখোশ তৈরি করা হয়েছে ২০ হাজার। ব্রাজিলের নেইমার, অস্কার ও জুলিয়োসিজার এবং আর্জেন্টিনার মেসি, আগুয়েরা ও রোমেরোর মুখোশ পরে দর্শকরা গ্যালারিতে বসে খেলা দেখবেন। এসব তথ্য জানালেন ‘মাটি ও মানুষ’, ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা, পরিকল্পক ও পরিচালক এবং উপস্থাপক শাইখ সিরাজ। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ৯ জন করে কৃষক প্রতিটি দলে খেলবেন। থাকবে ব্লেজার এবং লুঙ্গি পরা ম্যানেজার। বিজয়ী দলকে দেয়া হবে বিশ্বকাপ ট্রফি। সবচেয়ে বড় বিষয় মাগুরার পতাকা আমজাদকে দেয়া হবে বিশেষ সম্মাননা। এ ফুটবলপ্রেমী কৃষক নিজের একবিঘা জমি বিক্রি করে সাড়ে তিন কিলোমিটার একটি পতাকা তৈরি করেছেন জার্মানির। চ্যানেল আইয়ের কৃষিপদকপ্রাপ্ত কৃষকরা গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন। ধারাভাষ্যকার তাদের বিশেষভাবে পরিচয় করিয়ে দেবেন। খেলা হবে সন্ধ্যায় ফ্লাডলাইটের ঝলমলে আলোয়। শাইখ সিরাজ বলেন, প্রথমবারের মতো আয়োজিত কৃষকের বিশ্বকাপ ফুটবলের একটি স্লোগান থাকছে। স্লোগান হচ্ছে- ‘কৃষকের বিশ্বকাপ ফুটবল- বিষমুক্ত খাদ্যের বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, এর আগে আমরা ২০১১ সালে ময়মনসিংহের চরপুলিযামারী গ্রামে কৃষকের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আয়োজন করেছিলাম। এদিকে চ্যানেল আইয়ের ঈদ অনুষ্ঠানমালার সবচেয়ে আলোচিত এবং জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’ প্রসঙ্গে শাইখ সিরাজ বলেন, এবারের কৃষকের ঈদ আনন্দর অনুষ্ঠান ধারণ করা হবে ২৩শে জুন রাজবাড়ির পদ্মা নদীর পাড়ে। প্রচার হবে ঈদের দ্বিতীয় দিন। তিনি বলেন, প্রতিবারের মতো নতুন নতুন চমক তো থাকবেই। বিশেষ চমক হিসেবে থাকবে ফুটবল নিয়ে একটি পর্ব। কৃষকের ঈদ আনন্দ, বিশ্বকাপ ক্রিকেট, বিশ্বকাপ ফুটবল ইত্যাদি আয়োজন প্রসঙ্গে চ্যানেল আইর পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, ৩০ বছর ধরে কৃষক আর কৃষি নিয়ে কাজ করছি। তখন থেকেই দেখেছি টেলিভিশন শুধুই বিনোদনের একটি মাধ্যম। ইচ্ছা ছিল বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষণীয় কিছু করা, শহরকেন্দ্রিক আনন্দ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য আনন্দের কিছু করার। যখন আল্লাহ সামর্থ্য দিলো। নিজেরা একটা চ্যানেল দিলাম। তখন সেই ইচ্ছাকে পূরণ করার পাশাপাশি কৃষকদের উজ্জীবিত করার জন্য শুধু কৃষকের ঈদ আনন্দ, কৃষকের বিশ্বকাপ ক্রিকেট, ফুটবলই নয়, আমরা শিক্ষণীয় হিসেবে কৃষকের বাজেট এবং কৃষকের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও অনুষ্ঠান করছি। নতুন প্রজন্মকে কৃষি সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য ‘ফিরে চলো মাটির টানে’ও করছি। এতে করে কৃষকরা আনন্দের পাশাপাশি অনেক কিছু জানতে পারছে। শহরকেন্দ্রিক নতুন প্রজন্মরা কৃষকের দুঃখ-কষ্টের ফসল উৎপাদন সম্পর্কে জানতে পারছে। শাইখ সিরাজ বলেন, আমরা যা করছি এটা একটা আন্দোলন। কারণ আমি বিশ্বাস করি গ্রামের মানুষের জীবনের উন্নয়ন ঘটাতে না পারলে দেশের উন্নয়ন হবে না। দেশের সার্বিক উন্নয়নে আনন্দ-উৎসব আর শিক্ষণীয় অনুষ্ঠানগুলো দিয়ে আমরা যে আন্দোলন শুরু করেছি সেটা অবশ্যই একদিন সফল হবে এবং সেদিন খুব বেশি দূরে নয়।
