সাহসী দুই বন্ধুর আত্মত্যাগের ফলে বেচেঁ গেল হাজার হাজার প্রাণ

4042_1নিজেদের প্রাণ  দিয়ে, প্রার্থনার সময় মসজিদে আসা কয়েক’শো মানুষের জীবন বাঁচায়ে দিলেন দুই বন্ধু। সাহসী মৃত্যুর পর, সবার চোখেই রাতারাতি নায়ক ওই দুই সৌদি যুবক মোহাম্মদ হাসান আলি বিন ঈষা ও আব্দুল জলিল আল আরবশ।

সৌদির দামামে ইমাম হুসেন মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন দুই বন্ধু। মসজিদের ভিতরে তখন কয়েকশো ধর্মপ্রাণ মানুষ নমাজ পড়ছেন। হঠাত্‍ই হানা দেয় আইএসের আত্মঘাতী মানববোমা। চোখমুখ দেখে সন্দেহ হয় দুই বন্ধুর। তারা সন্দেহজনক ওই ব্যক্তিকে মসজিদে ঢুকতে বাধা দিলে, আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায় ওই মানববোমা। ওই মানববোমার সঙ্গে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই যুবকের।

 প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আই এস এর ওই আত্মঘাতী জঙ্গি মহিলার ছদ্মবেশে মসজিদে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। মসজিদের মেন গেটে তখন স্বেচ্ছাসেবীর দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন দুই বন্ধু। ‘মহিলা’র ভেকধারী ওই জঙ্গিকে চেক পয়েন্টের সামনে তাঁরা বাধা দিলে, সামনেই গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটায় ওই জঙ্গি।

বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মসজিদে আসা মানুষ জন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কেঁপে ওঠে মসজিদটি। কিছুক্ষণ পর ভয়ার্ত মুখে বাইরে বেরিয়ে তাঁরা জানতে পারেন দুই যুবকের বীরত্বের কথা। প্রাণে বেঁচে তাঁরা সকলেই শ্রদ্ধা দেখিয়েছন ওই দুই যুবককে। এঁদের চোখে দুই বন্ধুই আজ হিরো। সোশ্যাল সাইটগুলোয় ছড়িয়ে পড়ে দুই বন্ধুর সাহসীকতার কথা।

নিহত দুই দুঃসাহসীর একজন বছর পঁচিশের আব্দুল জলিল সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পড়াশোনা করে ফিরে কয়েক দিন হল বিয়ে করেছিলেন। তাঁর মা সৌদির একটি প্রথমসারির কাগজের নামী লেখক।

গত ২২ মে সৌদিরই অন্য মসজিদে এমনই এক বিস্ফোরণে ২১ জনের মৃত্যু হয়।

Posted by Ab Emon

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *