শিরোনাম

আইসল্যান্ডের সবার নামে কেন ‘সন’?

| ২৫ জুন ২০১৮ | ১২:০০ অপরাহ্ণ

আইসল্যান্ডের সবার নামে কেন ‘সন’?

মাত্র সাড়ে তিন লাখ লোকের দেশ আইসল্যান্ড। নরডিক দেশটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণই তো একটা চমক। তবে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিষেকের জন্য যেন আরও বড় চমক জমিয়ে রেখেছিল গুনারসনরা। জমাট রক্ষণে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে রুখে দিয়ে এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছেড়েছিল আইসল্যান্ড। তবে ‘বিগিনারস লাক’ ফুরিয়েছে পরের ম্যাচেই, নাইজেরিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে। তবে মাঠে শুধু আইসল্যান্ডের খেলাই তাদের দিকে আলাদা দৃষ্টি দেওয়ার একমাত্র কারণ নয়। আইসল্যান্ডের খেলোয়াড়দের পায়ে বল মানেই তো ধারাভাষ্যকারদের মুখে ‘সন, সন আর সন’!

নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের একাদশটাই দেখুন-হলডরসন, স্যাভারসন, আরনাসন, সিগুর্ডসন, মাগনুসন, গিসলাসন, গুনারসন, সিগুর্ডসন (আরেকজন), বিয়ারনাসন, ফিনবোগাসন ও বোডভারসন। বদলি নামা তিনজনের নামও মিলিয়ে নিন-ইনগাসন, সিগুরডার্সন ও স্কুলাসন! আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এই কজনের বাইরে ছিলেন শুধু গুডমুন্ডসন! ধারাভাষ্যকারদের নাভিশ্বাস উঠতে আর কী লাগে!

প্রশ্ন জাগা খুব স্বাভাবিক, আইসল্যান্ডের খেলোয়াড়দের সবার নামের শেষে সন কেন? তাঁদের সবার পদবিই কি এক? উত্তর জানতে, জানতে হবে আইসল্যান্ডের একটুখানি ইতিহাস। আইসল্যান্ডিক মানুষদের নামকরণের রীতি ইউরোপের অন্য দেশগুলোর থেকে আলাদা। আইসল্যান্ডের মানুষের নামের শেষে পূর্বপুরুষদের নামের শেষের অংশ সরাসরি যুক্ত হয় না; বরং পদবি আসে সরাসরি বাবার নাম থেকে (ক্ষেত্রবিশেষে মায়ের নাম থেকে, যদি মা পরিবারের প্রধান হন)।

Pran up

তো ধরা যাক কারও নাম ওলাফুর। আর তাঁর বাবার নাম ইয়ান এরিকসন। তবে ওলাফুরের পুরো নাম হবে ওলাফুর ইয়ানসন। আর ইয়ান এরিকসনের আনা নামে কোনো মেয়ে থাকলে, তাঁর পুরো নাম হবে আনা ইয়ানসডটির (সন যেমন ছেলেদের পদবি, তেমনি ডটির হলো মেয়েদের পদবি)। আইসল্যান্ড ফুটবল দলের সবাই যেহেতু ছেলে, তাই সবার নামের শেষে স্বভাবতই বসেছে সন। নামকরণের এই ঐতিহ্য আগে সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্কে থাকলেও এখন চালু আছে কেবল আইসল্যান্ডে ও সুইডেনের কিছু অংশে।

এই সন ধারার ব্যতিক্রমও কিন্তু আছে। আছে এই আইসল্যান্ড দলেই। বিশ্বকাপের দলের তিন গোলকিপারের একজনের নাম ফ্রেডেরিক স্ক্রাম (২৩ জনের দলের একমাত্র ব্যতিক্রম)। বংশপরম্পরায় কোনো পদবি চলে আসলে (যদিও সেটা আইনত বৈধ হতে হবে!) এই নিয়মের ব্যতিক্রম হওয়া সম্ভব। আইসল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নাম যেমন গের হার্ডে, ফুটবল তারকা আইডুর গুডইয়ানসেন, চলচ্চিত্র পরিচালক বালতাসার করমাকুর সাম্পার।

মজার ব্যাপার, আইসল্যান্ডিকদের নামের প্রথম অংশ রাখার ক্ষেত্রেও আইসল্যান্ডিক নাম-নির্ধারণ কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হয়। যদি নামের সব অক্ষর আইসল্যান্ডিক অক্ষরের না হয়, নাম যদি পদবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে সেই নাম কমিটি বাতিল করে দেয়!আরও অদ্ভুত ব্যাপার হলো, পুরুষদের নারীজাতীয় নাম এবং নারীদের পুরুষজাতীয় নাম দেওয়া আইনত অবৈধ। ২০১৩ সালে এক মেয়ের নাম ‘ব্ল্যার’ রাখা না রাখা নিয়ে কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছিল তাঁর বাবা-মা! দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর মেয়েটির নাম শেষ পর্যন্ত ব্ল্যারই ছিল।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিয়ে করলেন নাবিলা

২৭ এপ্রিল ২০১৮

ফেইজবুকে আমরা

  • পুরনো সংখ্যা

    SatSunMonTueWedThuFri
    21222324252627
    28293031   
           
          1
    9101112131415
    30      
         12
           
          1
    2345678
    30      
       1234
    262728293031 
           
         12
           
      12345
    2728293031  
           
    891011121314
    2930     
           
        123
           
        123
    25262728   
           
    28293031   
           
          1
    2345678
    9101112131415
    3031     
          1
    30      
      12345
    272829    
           
        123
           
    28