শিরোনাম

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে ২০ দলের প্রতিনিধিত্ব করবে বিএনপি

| ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১২:০১ অপরাহ্ণ

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে ২০ দলের প্রতিনিধিত্ব করবে বিএনপি

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় এখন থেকে ২০ দলের প্রতিনিধিত্ব করবে প্রধান শরিক দল বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জোটের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সাফল্য কামনা করেছে জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার পাশাপাশি জোটের অভ্যন্তরেও পূর্ণ সংহতি বজায় রাখার কথাও বলেছেন নেতারা। বৈঠক সূত্র জানায়, জোটের বৈঠকে শরিক দল জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা এটিএম আবদুল হালিম বলেছেনÑ জামায়াত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। ঐক্য প্রক্রিয়ার সাফল্য কামনা করে। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার তরফে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য এলেও তারা এগুলোর প্রতিবাদ করবে না। জবাব দেবে না।তারা চায়, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া সফল হোক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক দুইটি প্রস্তাব দেন। তার প্রথম প্রস্তাব হচ্ছে, জাতীয় ঐক্যে ২০ দলীয় জোটের প্রতিনিধিত্ব করবে বিএনপি।

দ্বিতীয় প্রস্তাব হচ্ছে, জোটের জ্যেষ্ঠতম নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমকে পর্যাপ্ত সম্মান দিয়ে তার সঙ্গে দূরত্ব কমানো প্রয়োজন। বৈঠকে ইবরাহিম আরো বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রথম নাগরিক সমাবেশে ২০ দলীয় জোটের কোনো দলকে দাওয়াত দেয়া হয়েছে, কোনো দলকে দাওয়াত দেয়া হয়নি। ফলে কার দাওয়াতে এবং কেন নাগরিক সমাবেশে যাওয়াÑ তা পরিষ্কার না হওয়ায় দাওয়াত পেয়েও অনেকেই সেদিন অংশ নেননি। তবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। এখন থেকে বিএনপিই জাতীয় ঐক্যে ২০ দলীয় জোটের প্রতিনিধিত্ব করলে ভালো হয়। তার এ প্রস্তাবটি সবাই সর্বসম্মতভাবে সমর্থন দেন। এরপর ইবরাহিম বলেন, ২০ দলীয় জোটে খালেদা জিয়ার পরই সিনিয়র নেতা হচ্ছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম। জোটে তাকে পর্যাপ্ত সম্মান দিয়ে তার সঙ্গে দূরত্ব কমানো প্রয়োজন। এছাড়া ২০ দলের মধ্যেই পূর্ণ সংহতি রাখা প্রয়োজন। নিজের ঘরে অসন্তুষ্টি রেখে বাইরে সফল হওয়া যায় না। ফলে কে, কি কারণে, কোথায় অসন্তুষ্ট তা দেখা উচিত।

সূত্র জানায়, কর্নেল (অব.) অলি প্রসঙ্গে ইবরাহিম বীরপ্রতীকের প্রস্তাবটিকে সমর্থন করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা এটিএম আবদুল হালিম ও এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ। বৈঠক সূত্র জানায়, খেলাফতে মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও ডিএল মহাসচিব সাইফুদ্দিন মনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে জোটের আসন বণ্টন নিয়ে কথা তুলেন। তারা বলেন, এখন নির্বাচনী আসন বণ্টন নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনার সময় এখন নয়। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু আগামী নির্বাচনে জোটের শরিকদের আসন বণ্টন নিয়ে একটি সুস্পষ্ট নিশ্চিত ইশারা দেয়া প্রয়োজন। কারণ সুদিন এলে বিএনপি শরিকদের ভুলে গেলে তখন কি হবে? বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে তারা বলেন, আপনারা বাইরের (জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া) লোকজনের সঙ্গে আসন নিয়ে আলোচনা করছেন। সর্বোচ্চ ছাড় দেয়ার কথা বলছেন। কিন্তু নিজের ঘরে এ নিয়ে আলোচনা করছেন না। সাইফুদ্দিন মনির এমন বক্তব্যের পর রেগে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, আপনি কি সব উল্টোপাল্টা কথা বলছেন। বৈঠক সূত্র জানায়, বিজেপি সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, অনেকেই মনে করছেন ২০ দলীয় জোটের গুরুত্ব কমছে। এই জন্য অনেকেই শঙ্কিত। কিন্তু আমি মনে করি, ২০ দলীয় জোটের গুরুত্ব এখন কমানোই উচিত। কারণ এখন জাতীয় স্বার্থে বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজন। আর এ প্রয়োজনের তাগিদেই আমাদের ত্যাগ শিকার করতে হবে। বৈঠকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নূর হোসেন কাসেমী বলেন, বিএনপির এখন তার শক্তি প্রদর্শন ও প্রয়োগের সময়। এই শক্তি প্রদর্শনে বিএনপি সফল হলে বাকিরা উৎসাহিত হবে। নয়তো, অন্যদের পাওয়া যাবে না।

সূত্র জানায়, জোটের বৃহস্পতিবারের বৈঠকে শরিক দলের নেতাদের মধ্যে নূর হোসেন কাসেমীকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আহূত শনিবারের জনসভাটি করবে বিএনপি। পরের সভাগুলোতে জোটের শরিকদের দাওয়াত দেয়া হবে। তারা অংশগ্রহণ করতে পারবে। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান ও জাগপার তাসমিয়া প্রধানসহ জোটের শরিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিয়ে করলেন নাবিলা

২৭ এপ্রিল ২০১৮

ফেইজবুকে আমরা

  • পুরনো সংখ্যা

    SatSunMonTueWedThuFri
    78910111213
    14151617181920
    21222324252627
    28293031   
           
      12345
    27282930   
           
          1
           
          1
    9101112131415
    30      
         12
           
          1
    2345678
    30      
       1234
    262728293031 
           
         12
           
      12345
    2728293031  
           
    891011121314
    2930     
           
        123
           
        123
    25262728   
           
    28293031   
           
          1
    2345678
    9101112131415
    3031     
          1
    30      
      12345
    272829    
           
        123
           
    28