গল্প সংকটে ভুগছে দেশীয় নাটক। গেল কয়েক বছর এই সংকটের মধ্য দিয়ে নির্মাণ হচ্ছে নাটক। জনপ্রিয় তারকা থেকে শুরু করে নির্মাতা সকলেই নাটকের এই গল্প সংকটের কথা বলছেন। আর এ কারণে দেশের টিভি নাটকের দর্শক অনেক আগেই বিদেশি সিরিয়ালের দিকে ঝুঁেেক পড়েছেন। বিশেষ করে আমাদের দেশীয় নাটকের দর্শক ভারতীয় সিরিয়ালের নিয়মিত দর্শক হয়ে উঠেছেন। করোনা ভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে দেশীয় নাটকের গল্প সংকট আরো বেশি জটিল আকার ধারণ করেছে। একটি নাটকের প্রাণ হলো গল্প। সেই গল্পই পারে দর্শকদের ধরে রাখতে।

কিন্তু আজকাল প্রায় নাটকেই গতানুগতিক গল্প দেখা যায়। অভিনেতা অভিনেত্রীদের চরিত্রেও কোনো বৈচিত্র্য থাকে না। এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ নাটকে রোমান্টিক দৃশ্য বাদ দেয়া হচ্ছে। অন্য দিকে এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ইনডোর ভিত্তিক গল্পের দিকেই শিল্পী ও নির্মাতারা মনোযোগ দিচ্ছেন। কিন্তু এভাবে গল্পে একজন নাট্যকার কতটা নতুনত্ব রাখতে পারবেন সেই প্রশ্ন থেকে যায়। এ প্রসঙ্গে জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঈশিতা বলেন, আমাদের নাটকে গল্প সংকটের অন্যতম কারণ হলো নাট্যকারকে স্বাধীনতা না দেয়া। একইসঙ্গে বাজেটও একটি বিশেষ কারণ। একজন নাট্যকারকে যদি দুইদিনে একটি নাটক দিতে হয় তাহলে তার গল্প নিয়ে ভাবার সময় কোথায়? এছাড়া অনেক সময় দেখা যায় ভালো বাজেট না থাকার কারণে নির্মাতা ভালো কোনো স্ক্রিপ্ট রাইটারের গল্প নিচ্ছেন না। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য টিভি চ্যানেল-নির্মাতাসহ নাটক সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে বসতে হবে। তাহলে অবশ্যই একটা সমাধানের পথ আসবে। বিষয়টি নিয়ে নির্মাতা ও অভিনেতা সালাহ্‌উদ্দিন লাভলু বলেন, আমাদের দেশীয় নাটক গল্প সংকটে আছে এটি অস্বীকার করার কিছু নেই। একটা সময় গল্পে অনেক চরিত্রের উপস্থিতি থাকতো। এখন সেটি কমতে-কমতে নায়ক ও নায়িকা নির্ভর হয়ে পড়েছে। করোনার এই সময়ে সেটি আরো জটিল হয়ে পড়েছে আমিও মনে করি। নির্মাতা সাগর জাহান বলেন, আমাদের এই সময়ে যে বাজেট দেয়া হয় তা দিয়ে অনেক পরিচালকের পক্ষেই ভালো নাটক নির্মাণ সম্ভব না। একটি ভালো নাটকের জন্য ভালো গল্পের পাশাপাশি ভালো শিল্পী ও লোকেশন থেকে শুরু করে আরো অনেক উপাদান প্রয়োজন। কিন্তু সেই তুলনায় বাজেট এখন অনেক কম। তবে এই গল্প সংকটের জন্য একতরফা কাউকে দায়ী করা যাবে না। এখানে কম বেশি সবার দূর্বলতা আছে। নাটক সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় যতগুলো নাটক এ পর্যন্ত দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে তার সবক’টির গল্পের গভীরতা অনেক বেশি। সংলাপ ও শিল্পীদের চরিত্রেও নতুনত্ব ছিল। আমাদের নাটকের উন্নয়নের জন্য ভালো গল্প ও স্ক্রিপ্ট রাইটারের প্রয়োজন। একই সঙ্গে দক্ষ নির্মাতাদের নাটক নির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে। দেশীয় নির্মাতাদের ভালো গল্প ও সাহিত্যনির্ভর নাটক নির্মাণের মধ্য দিয়ে আবারো দর্শকদের নাটকমুখী করতে হবে। পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। না হয় টিভি নাটকের বিপর্যয় অনিবার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed